
জামাল হোসেন লিটন।। হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার চাকলাপুঞ্জি চা বাগান এলাকায় দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শতাধিক চা শ্রমিক পরিবার মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারী) থেকে গভীর নলকূপের মাধ্যমে নিরাপদ পানির সুবিধা পাচ্ছেন। স্থানীয়দের মতে, এটি শ্রমিকদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে এনেছে।
জানা যায়, বাগানটি উঁচু এলাকায় হওয়ায় এখানে পানযোগ্য পানির তীব্র সংকট ছিল। কোনো স্থায়ী নলকূপ বা বিশুদ্ধ পানির উৎস না থাকায় শ্রমিক পরিবারগুলোকে দূরবর্তী স্থান থেকে পানি সংগ্রহ করতে হতো। অনেক সময় অপরিষ্কার ও জীবাণুযুক্ত পানি পান করায় নারী-শিশুসহ শ্রমিকরা পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হতেন। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি যেমন ছিল, তেমনি দৈনন্দিন জীবনযাপনেও ভোগান্তি পোহাতে হতো।
জাতীয় নির্বাচনের সময় হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মোঃ ফয়সল–এর ছেলে সৈয়দ শাফকাত আহমেদ সরেজমিনে বাগানটি পরিদর্শন করেন। শ্রমিকদের দুর্দশা প্রত্যক্ষ করে তিনি বিষয়টি সংসদ সদস্যকে অবহিত করেন। পরে সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় সেখানে একটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয় এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে শ্রমিক পরিবারের মধ্যে সুপেয় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়।
চা শ্রমিক হৈমন্তি সাঁওতাল বলেন, “আগে আমাদের অনেক দূর থেকে পানি আনতে হতো। অনেক সময় সেই পানি খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়তাম। এখন নলকূপ হওয়ায় বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছি। এতে আমাদের কষ্ট অনেকটাই কমেছে।”
এ বিষয়ে সৈয়দ শাফকাত আহমেদ বলেন, “চাকলাপুঞ্জি চা বাগানের শ্রমিকদের পানির কষ্ট আমি নিজ চোখে দেখেছি। বিশুদ্ধ পানি মানুষের মৌলিক অধিকার। আমার বাবা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর নির্দেশনায় দ্রুত এখানে গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও চা শ্রমিকদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আবাসনসহ বিভিন্ন মৌলিক সমস্যা সমাধানে আমরা কাজ করে যাব।”
সংসদ সদস্য সৈয়দ মোঃ ফয়সল বলেন, “আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষের প্রতি আমি দায়বদ্ধ। মাধবপুর ও চুনারুঘাটের ২৩টি চা বাগানে নানা সমস্যা রয়েছে। দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী এসব মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আমরা পরিকল্পিতভাবে কাজ করছি। চাকলাপুঞ্জি চা বাগানের পানির সংকট সমাধান করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বাগানেও প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। সুপেয় পানির এ উদ্যোগ শ্রমিকদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। পাশাপাশি তারা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়নেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দ.ক.সিআর.২৬