
নকীব নাসির, বর্তমান বাংলা: ঘটে যাওয়া ঘটনা, কোনো বিশেষ স্থান, ব্যক্তি অথবা পরিবেশ-পরিস্থিতি সংক্রান্ত তথ্য সরজমিনে সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট প্রচারমাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া ব্যক্তির নামই হলো সাংবাদিক। সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি একটি শিল্প এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার এক বিশাল ক্ষেত্র।
শুরুতেই একটি কথা বলা জরুরি, তা হলো ‘সাহসিকতা একজন সাংবাদিকের মূল ভিত্তি, পরিশ্রম তার কাজের ক্ষেত্র এবং নৈতিকতা হলো তার নিরাপদ নিবাস’ এই তিনের সমন্বয় ছাড়া সাংবাদিক পরিচয় দেওয়াটা মূল্যহীন।
বর্তমানে লক্ষ্য করা যায়, একটি প্রেস কার্ড পেয়ে কেবল সেটি প্রদর্শন করে নিজের বড়ত্ব জাহির করাকেই অনেকে সাংবাদিকতা মনে করেন। গণমাধ্যমকর্মীর পরিচয়পত্র বা অনুমোদন পত্র পেয়ে সেটির অপব্যবহার করা কিংবা কাউকে জিম্মি করে নিজের স্বার্থ হাসিল করা কোনো প্রকৃত সংবাদকর্মীর কাজ হতে পারে না। এছাড়া, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও আমলাদের সাথে অনৈতিক সুসম্পর্ক বা ‘তৈলাক্ত ঘষামাজা’ সাংবাদিকতার মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে। ব্যক্তিত্বহীনতার পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া মূলত নামধারী সাংবাদিকদের বড় ধরনের চারিত্রিক ত্রুটি।
সাংবাদিকতা করতে হলে কিছু মৌলিক গুণ থাকা আবশ্যক। সত্যনিষ্ঠতা, নিরপেক্ষতা, সাহসিকতা ও নৈতিক দায়িত্ববোধই একজন সাংবাদিকের মূল শক্তি। একজন প্রকৃত সাংবাদিককে সবসময় অন্যায়, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সত্য প্রকাশে সোচ্চার থাকতে হয়। এক্ষেত্রে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে জনস্বার্থে কাজ করা এবং মানুষের মনে সচেতনতা তৈরি করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।
মনে রাখতে হবে, সাংবাদিকতা একটি সৃজনশীল শিল্প। এই শিল্পচর্চায় যদি আপনি নিজের সর্বোচ্চটা দিতে ব্যর্থ হন বা সততা বজায় রাখতে না পারেন, তবে এই পেশা থেকে দূরে থাকাই সম্মানজনক।
সব শেষে আমি বলবো, সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বপূর্ণ এবং মহৎ পেশা। এই পেশায় সততা, নিষ্ঠা ও মানবিকতা বজায় রাখলে একজন সাংবাদিক প্রকৃত অর্থেই ‘সমাজের আয়না’ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন।
দ.ক.সিআর.২৬