
পারভেজ হাসান লাখাই : হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় শীতে হাওরাঞ্চলে অতিথি ও দেশীয় পাখির আনাগোনা বাড়লেও থামছে না পাখি শিকারিদের দৌরাত্ম্য। আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উপজেলার বিভিন্ন হাওরে অবাধে চলছে পাখি শিকার। আর এসব শিকার করা পাখি উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লাখাইয়ের বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে এখন পরিযায়ী ও দেশীয় পাখির কলকাকলিতে মুখর হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে চলছে শিকারিদের রাজত্ব। একদল অসাধু শিকারি জাল, বিষটোপ এবং বিভিন্ন মরণফাঁদ পেতে প্রতিদিন শত শত পাখি শিকার করছে। বিশেষ করে রাতের আঁধারে এবং ভোরে যখন পাখিরা খাবারের সন্ধানে বের হয়, তখনই তাদের লক্ষ্য করে এই নিধনযজ্ঞ চালানো হয়।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব বন্যপাখি আড়ালে নয় বরং উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে অনেকটা প্রকাশ্যেই কেনাবেচা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও এসব পাখির মাংসের প্রতি ঝোঁক থাকায় চড়া দামে মুহূর্তেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে শিকার করা পাখিগুলো। প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে বা তোয়াক্কা না করেই চলছে এই বাণিজ্য।
স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশবাদীরা বলছেন, এভাবে পাখি নিধন চলতে থাকলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হবে। পাখিরা কেবল প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, বরং ফসলি জমির ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অবাধে পাখি শিকার অব্যাহত থাকলে জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়বে।
বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী পাখি শিকার ও কেনাবেচা দণ্ডনীয় অপরাধ। সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে শিকারিদের আইনের আওতায় আনা হোক এবং হাটবাজারগুলোতে তদারকি বাড়ানো হোক।
দ.ক.সিআর.২৫