1. live@kaalnetro.com : কালনেত্র : কালনেত্র
  2. info@www.kaalnetro.com : দৈনিক কালনেত্র :
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০২:১১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
বাহুবলের মিরপুরে অটোরিকশা থেকে মাসে কোটি টাকা চাঁদাবাজি এসএসসিতে গোল্ডেন এ-প্লাস পেয়ে উত্তীর্ণ আহম্মদাবাদের নুশরাত কিশোরদের গেমিং আসক্তি রোধে মাঠে লাখাই থানা পুলিশ প্রাইভেট পড়ালে শিক্ষকদের এমপিও বন্ধ করে দেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কতটা গণতান্ত্রিক?  চুনারুঘাটে সাবেক মেয়রের সঙ্গে পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ ইউরোপ স্বপ্নের মর্মান্তিক পরিণতি: লাশ হয়ে ফিরলো বানিয়াচংয়ে জাহাঙ্গীর চুনারুঘাটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত চুনারুঘাট শহরে মাদক, বখাটেপনা ও চুরি প্রতিরোধে মতবিনিময় সীমানা প্রাচীর নেই, ঝুঁকিতে হাজী আবুল হাশিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা

বাহুবলের মিরপুরে অটোরিকশা থেকে মাসে কোটি টাকা চাঁদাবাজি

উপজেলা প্রতিনিধি: 
  • প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর চৌমুহনীতে অটোরিকশার একটি অনিবন্ধিত সংগঠনের নাম ব্যবহার করে রিকশার মালিক ও শ্রমিকদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ফরিদ মিয়া নামের স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংগঠনের নেতৃত্ব ও প্রভাব খাটিয়ে রিকশাপ্রতি ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা কথিত ভর্তি ফি এবং প্রতিদিন ৫০ টাকা করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শ্রমিক ও রিকশার মালিকরা।

ভুক্তভোগীদের দাবি, দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ধরে মিরপুর চৌমুহনী এলাকায় অটোরিকশা চালকদের একটি বৃহত্তর সংগঠন রয়েছে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আসকার আলী নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। তখন কোনো ভর্তি ফি কিংবা দৈনিক চাঁদা আদায়ের প্রচলন ছিল না। তবে প্রায় পাঁচ বছর ধরে ফরিদ মিয়া নামের ওই ব্যক্তি সংগঠনের নাম ব্যবহার করে পেশিশক্তির প্রভাব খাটিয়ে শ্রমিকদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ আদায় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি অটোরিকশার জন্য ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত কথিত ভর্তি ফি নেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রতিদিন প্রতিটি রিকশা থেকে ৫০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এতে দিনভর পরিশ্রম করে উপার্জন করা অর্থের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ চাঁদা হিসেবে দিতে হচ্ছে শ্রমিকদের। চাঁদা দিতে অনীহা প্রকাশ করলে শ্রমিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নির্যাতনের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।

স্থানীয় শ্রমিকদের ভাষ্য, জুলাই বিপ্লবের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে দীর্ঘদিন ধরে এসব অভিযোগে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা একপর্যায়ে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ রেখে বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের পর তৎকালীন ইউএনওর নির্দেশে সাময়িকভাবে চাঁদা আদায় বন্ধ ছিল। তবে কিছুদিন পর আবারও আগের মতো অর্থ আদায়ের কার্যক্রম শুরু হয় বলে অভিযোগ শ্রমিকদের। শুধু শ্রমিকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় নয়, মিরপুর চৌমুহনী কেন্দ্রিক অটোরিকশা চলাচলের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বানিয়াগাঁও, পশ্চিম জয়পুর, রগুরামপুর, পূর্ব জয়পুরসহ আশপাশের প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ মিরপুর চৌমুহনীর অটোরিকশার ওপর নির্ভরশীল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দুই বছর আগেও এসব রুটে অটোরিকশার ভাড়া ছিল মাত্র ১০ টাকা। বর্তমানে একই যাত্রার জন্য ৩০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এতে নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের যাতায়াত ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এ ছাড়া পশ্চিম জয়পুরসহ আশপাশের এলাকা থেকে মিরপুরে এক বস্তা চাল পরিবহন করতেও ৬০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগী অটোরিকশা শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, তারা কোনো সংগঠনের বিরোধিতা করছেন না। শ্রমিকদের কল্যাণে সংগঠন থাকুক—এটাই তাদের প্রত্যাশা। তবে সংগঠনের নামে জোরপূর্বক অর্থ আদায়, অতিরিক্ত চাঁদা এবং শ্রমিকদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

তাদের দাবি, সংগঠনটি আদৌ নিবন্ধিত কি না, অর্থ আদায়ের বৈধতা আছে কি না এবং সংগৃহীত অর্থ কোথায় ব্যয় করা হচ্ছে—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অটোরিকশা মালিক ও শ্রমিকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের নামে কোনো অনিয়ম বা জবরদস্তি হয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা ও অভিযোগ থাকলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। ফলে দ্রুত উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং শ্রমিকদের জিম্মিদশা থেকে মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

দ.ক/এনআইআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
© 𝐰𝐰𝐰.𝐤𝐚𝐚𝐥𝐧𝐞𝐭𝐫𝐨.𝐜𝐨𝐦
Theme Customized BY LatestNews