
চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর হাইস্কুল এন্ড কলেজে ৫ই আগস্ট জাতীয় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উদ্যাপন ঘিরে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রক্ত দেওয়া প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাদের বাদ দিয়ে বিগত স্বৈরাচার সরকারের দোসর ও ‘আওয়ামী ডেভিল’দের নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আবু নাছেরের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনুষ্ঠানে জুলাইয়ের মূল চেতনা ও শহীদদের আত্মত্যাগের তাৎপর্য তুলে ধরার কথা থাকলেও যাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়েছে, তারা সরাসরি জুলাই বিপ্লব ও ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিরোধী অপশক্তি। অভ্যুত্থানের ইতিহাস বিকৃত করে বিতর্কিত ব্যক্তিদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে উপস্থাপনের অপচেষ্টা চালানো হয়েছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
অনুষ্ঠানের নেপথ্য নায়ক অধ্যক্ষ আবু নাছেরকে নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। তিনি ২নং আহমেদাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে আসীন ছিলেন। অতীতেও তার বিরুদ্ধে গাজীপুর হাইস্কুল এন্ড কলেজকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করে ‘আওয়ামী লীগের কর্মী তৈরির কারখানা’ বানানোর গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। একজন স্বৈরাচারের দোসর ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকারীর হাতে কীভাবে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবসের দায়িত্ব সোপর্দ হলো, তা নিয়ে চুনারুঘাট জুড়ে বইছে আলোচনার ঝড়।
এদিকে ঘটনাটি কেন্দ্র করে চুনারুঘাটের ১নং গাজীপুর ইউনিয়ন স্থানীয় ছাত্রনেতা ও প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে একের পর এক পোস্ট দিচ্ছেন। তাদের প্রশ্ন—যাদের হাতে জুলাইয়ের রক্ত লেগে আছে, তারা কীভাবে জুলাইয়ের মূল্যায়ন করবে? কেন বিপ্লবের প্রকৃত বীরদের বাদ দিয়ে আওয়ামী ডেভিলদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে? এই অপকর্মের দায়ভার শেষ পর্যন্ত কার?
স্থানীয় ছাত্র-জনতা ও সচেতন নাগরিকরা অনতিবিলম্বে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিতর্কিত এই আয়োজনের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
দ.ক/এমএস