
স্মরণ সিং, মৌলভীবাজার : বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তন ও জীববৈচিত্র বিষয়ক সমস্যা, আদিবাসীদের সার্বিক পরিস্থিতি, বন,ভূমি ও পরিবেশগত সমস্যা, প্রাতিষ্ঠানিককরণ সমতল ও আদিবাসীদের জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প ও আদিবাসীদের কার্যকর অংশগ্রহণ, বননীতি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা অধ্যাদেশ ২০২৬ নিয়ে আলোচনা, জাতীয় গ্রামীণ বন বিধিমালা ( মতামত প্রদান) এবং স্থানীয়পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বাড়ানো ইত্যাদি বিষয়ে দিনব্যাপী কর্মশালা আয়োজন করেন এসএমসিডি প্রকল্প, খাগড়াপুর মহিলা সমবায় সমিতি।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় বননির্ভর জনগোষ্ঠী বনের ভিতর যারা বনবাসী ও আদিবাসী রয়েছেন দীর্ঘকাল বছর হইতে বসবাস করে আসতেছেন তারা বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ অবদানে ভূমিকা রাখছেন বলে জানান অংশগ্রহণকারীরা।
কর্মশালাটি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে হোটেল ইন রেষ্টুরেন্টে ২৫’ শে জুলাই রোজ শনিবার সকাল ১০ ঘটিকা হইতে দিনব্যাপী পরিচালনা করা হয়েছে।
কর্মশালায় মৌলভীবাজার জেলা তথা বিভাগীয় সিলেট অঞ্চলে বসবাসরত খাসিয়া, ত্রিপুরা,মণিপুরী, মুন্ডা, গৌড়, উরাও ও চা জনগোষ্ঠী বিভিন্ন সংগঠণের প্রতিনিধির সমন্বয়ে বন বিভাগের চলমান নানান সমস্যা, ভূমি হারানো ইতিহাস, চা জনগোষ্ঠীদের মধ্যে স্বাস্থ্য, শিক্ষা,সুপেয় পানির সংকট,মজুরী বৈষম্য সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
সিলেটে আদিবাসীদের একটি বড় অংশ চা বাগানে বসবাস করে। চা বাগানে যেসকল আদিবাসীদের খাস জমি,রেকর্ডিয় জমি, পাট্টা জমি ছিল তা বিভিন্ন চা কোম্পানি ও প্রভাবশালী গোষ্ঠী দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ সাপেক্ষে সেটেলমেন্ট ভূমি অফিস, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে যোগাযোগ করিলে তাদের নামে কোন সরকারি কাগজপত্র নাই বলে বিভিন্ন অজুহাত ও নানান জটিলতায় দিশেহারা জনর্দূভোগ পোহাতে হচ্ছে।
কর্মশালায় আগত আদিবাসী ও বনবাসী সংগঠণের নেতৃবৃন্দরা উক্ত বিষয়ে জোরালোভাবে বলেন, আমার পূর্ব পুরুষেরা ২০০-২৫০( দুইশত- দুইশত পঞ্চাশ)বছর ধরে এই বনভূমিতে গাছ লাগিয়েছেন,বনভূমি রক্ষণাবেক্ষণ করেছেন, বনভূমিতে চাষ করে জীবন-জীবীকা নির্বাহ করেছেন,বর্তমানে আমরাও এই বনভূমিতে বসবাস করে চলেছি।
কেন আমাদের বনভূমির দলিলাদি কাগজপত্র, বনভূমিতে চাষাবাদ ও বসবাসরত অধিকারে বিভিন্ন হয়রানি,হুমকি- ধামকি, ভয়- ভীতি প্রদর্শন করতে তীব্র নিন্দা ও বিক্ষোভ প্রতিবাদে সরকার ও রাষ্ট্রের নিকট আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে জোরদাবী জানিয়েছেন।
মৌলভীবাজার জেলায় খাসিয়া জনগোষ্ঠী পান ও সুপারী চাষে জীবনজীবিকা নির্বাহে মূল উৎস, ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী ও মণিপুরী জনগোষ্ঠী লেবু,আনারস,নাগামরিচ ও জুম চাষে একমাত্র নির্বাহক। উরাও,মুন্ডা,গৌড় চা জনগোষ্ঠী ধান উৎপাদন, সবজি চাষ, লেবু,পান,সুপারী, ও চাবাগানে কাজ করে পরিবারে সাংসারিক ও জীবনজীবিকা নির্বাহ করে যাচ্ছেন।
এছাড়াও আদিবাসী ও বনবাসী সংগঠণের নেতৃবৃন্দরা বলেন, আমরা বনবাসী ও আদিবাসী জাতীয় পর্য়ায়ে বন জলবায়ু পরিবর্তন ও জীববৈচিত্র বিষয়ক সমস্যা, আদিবাসীদের সার্বিক পরিস্থিতি, বন,ভূমি ও পরিবেশগত সমস্যা, প্রাতিষ্ঠানিককরণ সমতল ও আদিবাসীদের জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প ও আদিবাসীদের কার্যকর অংশগ্রহণ, বননীতি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা অধ্যাদেশ ২০২৬
জাতীয় গ্রামীণ বন বিধিমালা (মতামত প্রদান) এবং স্থানীয়পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও বনবাসীর প্রতিনিধিত্ব অংশগ্রহণে জোরদাবী জানিয়েছেন।
দ.ক.এসএস