1. live@kaalnetro.com : কালনেত্র : কালনেত্র
  2. info@www.kaalnetro.com : দৈনিক কালনেত্র :
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
জনবল সংকটে মুখ থুবড়ে পড়েছে লাখাইয়ের চিকিৎসাসেবা  শেষে এসেও আলোচনার শীর্ষে এমপি ভ্রাতা সাইফুল; তফসিল ঘোষণা না হলেও জোরেশোরে বইছে আহম্মদাবাদে নির্বাচনী হাওয়া চুনারুঘাটে উলামা পরিষদের উদ্যোগে সিরাত মাহফিল ও হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা আগামীকাল  আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন নির্বাচন: চেয়ারম্যান পদে নতুন চমক সংসদ সদস্য শাম্মী’র ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম গাজীপুর স্কুলের গভর্নিং বডির অভিভাবক প্রতিনিধি নোমান আহমেদ নির্বাচিত চুনারুঘাটে এক অসহায় বৃদ্ধা নারীর জমি দখলের পায়তারা করছে একটি ভূমিকেখো চক্র চুনারুঘাটে ইসলামী ছাত্রসেনার প্রতিনিধি সম্মেলন ও কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত স্থবির আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ, ভোগান্তিতে সেবাপ্রত্যাশীরা দেশে আত্মহত্যার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি স্কুল শিক্ষার্থীদের শিশুকে যেভাবে বইয়ে আগ্রহী করে তুলবেন

বাজেট নিয়ে কোনো ধারণা নেই ১৭ চা বাগানের শ্রমিকদের

Reporter Name
  • প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬

 

চুনারুঘাট প্রতিনিধি: জাতীয় বাজেট নিয়ে যখন দেশজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা, তখন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ১৭চা বাগানের অধিকাংশ শ্রমিকের কাছে বাজেট যেন এক অপরিচিত বিষয়। রাষ্ট্রের আয়-ব্যয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলিল সম্পর্কে তাদের জানাশোনা সীমিত, বরং দৈনন্দিন জীবনের সংগ্রামই তাদের প্রধান চিন্তার বিষয়।

চুনারুঘাট উপজেলার ছন্ডি, চান্দপুর, আমু, নালুয়া, পারকুল, লালচান্দ চা বাগানের শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাতীয় বাজেট কী, এতে তাদের জন্য কী বরাদ্দ থাকে কিংবা এর প্রভাব তাদের জীবনে কীভাবে পড়ে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই অধিকাংশ শ্রমিকের।

আমু চা বাগানের শ্রমিক নৃপেন তাতী বলেন, “বাজেটের কথা টেলিভিশনে শুনি, কিন্তু এর ভেতরে কী থাকে তা জানি না। আমাদের চিন্তা সপ্তাহ শেষে মজুরি পাব কি না, সন্তানদের খাবার জুটবে কি না।”

একই বাগানের নারী শ্রমিক শ্যামলী মুন্ডা বলেন, “বাজারে সবকিছুর দাম বাড়ে, কিন্তু আমাদের আয় বাড়ে না। বাজেটে আমাদের জন্য কিছু আছে কি না, কেউ কখনো জানায় না। তবে এইবার মাধবপুর চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ -৪) আসনের এমপি সৈয়দ মোঃ ফয়সল নিশ্চয়ই চা শ্রমিকদের কল্যানে নিশ্চয়ই বড় ভূমিকা পালন করবেন বলে তার বিশ্বাস কারন ইতোমধ্যেই এমন আলামত দেখছেন চা শ্রমিকেরা। ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বিভিন্ন বাগানে বিশুদ্ধ পানীয় জলের জন্য অনেকগুলো গভীর নলকুপ স্থাপন, কয়েক সপ্তাহ তলব বন্ধ থাকার সময় শ্রমিকদের খাদ্য ও অর্থ সহায়তা প্রদান সহ নানা কর্মকান্ডের মাধ্যমে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি।”

স্থানীয় সূত্র জানায়, চা শ্রমিকদের একটি বড় অংশ এখনও দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। বাসস্থান, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা সুবিধার সংকট দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন চা বাগানে বকেয়া মজুরি ও রেশন নিয়ে শ্রমিক অসন্তোষও দেখা গেছে। হবিগঞ্জের কয়েকটি বাগানে বকেয়া মজুরির দাবিতে শ্রমিকরা আন্দোলন ও কর্মবিরতিও পালন করেছেন।

শ্রমিক নেতারা বলছেন, জাতীয় বাজেটে চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, আবাসন উন্নয়ন এবং শিশুদের শিক্ষার জন্য আলাদা বরাদ্দ প্রয়োজন। তবে বাজেট প্রণয়নের সময় তাদের মতামত নেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের চা শিল্প অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান এখনও অনেক পিছিয়ে। কম মজুরি, সীমিত সামাজিক নিরাপত্তা এবং মৌলিক সেবার ঘাটতির কারণে তারা জাতীয় অর্থনৈতিক নীতির সুফল থেকে বঞ্চিত থেকে যাচ্ছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বাজেট ঘোষণার পর শুধু শহরকেন্দ্রিক আলোচনা নয়, গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যেও এর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে চা শ্রমিকদের মতো পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর কাছে বাজেটের তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং তাদের চাহিদা প্রতিফলিত করা জরুরি।

চা বাগানের শ্রমিকদের ভাষায়, “বাজেট বুঝি না, কিন্তু এমন বাজেট চাই যাতে আমাদের জীবন একটু ভালো হয়।”

দ.ক.সিআর.২৬

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© 𝐰𝐰𝐰.𝐤𝐚𝐚𝐥𝐧𝐞𝐭𝐫𝐨.𝐜𝐨𝐦
Theme Customized BY LatestNews