
বাহুবল প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার পূর্ব জয়পুর গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে সংঘবদ্ধ অস্ত্রসজ্জিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক নারী ও তার স্বামী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে টেনু মিয়া (৭০) নামে এক বৃদ্ধের হাত ও কোমরের হাড় ভেঙে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও থানায় দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে স্থানীয় “এক্টিভ বয়েজ ক্লাব”-এর নাম ব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ দল খদভানু (৬৫) নামের এক বৃদ্ধার বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। অভিযোগে বলা হয়, ক্লাবের সভাপতি শাহীন ও সাধারণ সম্পাদক কাদিরের নেতৃত্বে ২৬-৩০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর শুরু করে।
এ সময় খদভানু ও তার স্বামী টেনু মিয়া বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। লাঠি ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এতে টেনু মিয়ার হাত ও কোমরে মারাত্মক আঘাত লাগে এবং হাড় ভেঙে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা খদভানুকে টেনে-হিঁচড়ে ঘরের বাইরে এনে মারধর করে এবং শ্লীলতাহানি করে। তার চিৎকারে অনার্স পড়ুয়া মেয়ে মুক্তা আক্তার ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর ও শ্লীলতাহানির শিকার হতে হয়।
হামলাকারীরা বাড়ির দরজা-জানালা,আসবাবপত্র ও রান্নাঘরের জিনিসপত্র ভাঙ্গচুর করে। পরে ঘরের ড্রয়ার ভেঙে নগদ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং প্রায় ২ ভরি স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা, লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার সময় ভুক্তভোগীদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার আগে প্রাণনাশ, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া এবং এলাকা ছাড়ার হুমকি দেয়। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর রাতভর হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়ির আশপাশে অবস্থান করায় ভুক্তভোগীরা আতঙ্কে ঘরবন্দী ছিলেন এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসা নিতে পারেননি।
পরের দিন ভোরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে আহতরা বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী খদভানু বাদী হয়ে ১৬ জন আসামিসহ অজ্ঞাত আরো ১৪ জনের বিরুদ্ধে বাহুবল মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৩৮০/৩৫৪/৪২৭/৫০৬/১১৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অভিযুক্তরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল এবং ঘটনার পরও মামলা না করার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে।
এ বিষয়ে বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনার অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে । ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ কাজ করছে।
দ.ক.সিআর.২৬