1. live@kaalnetro.com : Bertemu : কালনেত্র
  2. info@www.kaalnetro.com : দৈনিক কালনেত্র :
শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
দারিদ্র্য বিমোচনে জাকাতের গুরুত্ব নাক দিয়ে রক্ত পড়া: কী করবেন, কী করবেন না শিক্ষার নেতৃত্বে শিক্ষিত মানুষ: সভাপতির যোগ্যতা কেন গুরুত্বপূর্ণ আসন্ন ঈদ উপলক্ষে পরিবহন সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে পুলিশ সুপারের মতবিনিময় ভিজিএফ কার্ডের চাল বিতরণে অনিয়ম হলে ছাড় দেয়া হবে না: রুমন হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাফল্য খোয়াই ও সুতাং নদী রক্ষার দাবিতে নদীতীরে অবস্থান কর্মসূচি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন বাহরাইন প্রবাসী বিল্লাল মিয়া হবিগঞ্জে মুসাফির ও দুস্থ মানুষের জন্য বিনামূল্যে আতিথেয়তার আয়োজন জালানি তেলের সংকট চুনারুঘাটেও, অভিযোগ- মজুদ ও বেশি দামে বিক্রির

শিক্ষার নেতৃত্বে শিক্ষিত মানুষ: সভাপতির যোগ্যতা কেন গুরুত্বপূর্ণ

দৈনিক কালনেত্র
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬

 

মোঃ রোকনুজ্জামান শরীফ: বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা আজ এক গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। “স্মার্ট বাংলাদেশ” গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিক, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত করা এখন সময়ের দাবি। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক সাফল্য শুধু শিক্ষক বা শিক্ষার্থীদের উপর নির্ভর করে না; এর পেছনে কার্যকর নেতৃত্ব, সুশাসন এবং সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নেতৃত্বের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হলো গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি।

সভাপতি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক পদ নয়; বরং তিনি প্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারণ, প্রশাসনিক দিকনির্দেশনা এবং সামগ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রধান সমন্বয়কারী। তাই প্রশ্নটি আজ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক—একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এবং সেটি কি ন্যূনতম একটি মানদণ্ডের মধ্যে থাকা উচিত?

নেতৃত্বশিক্ষার মানের পারস্পরিক সম্পর্কঃ একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষ সাধারণত উচ্চশিক্ষিত, প্রশিক্ষিত এবং শিক্ষা প্রশাসনে অভিজ্ঞ ব্যক্তি হন। শিক্ষকগণও নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের মাধ্যমে পেশায় প্রবেশ করেন। কিন্তু যদি প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক ব্যক্তি পর্যাপ্ত শিক্ষাগত প্রস্তুতি ছাড়া দায়িত্ব পালন করেন, তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে একটি স্বাভাবিক বৈসাদৃশ্য তৈরি হতে পারে।
একজন এমএ বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন প্রধানের কাছে স্বল্প শিক্ষিত সভাপতির নেতৃত্ব কখনো কখনো অস্বস্তিকর বা অকার্যকর মনে হতে পারে। এতে পারস্পরিক সম্মান ও পেশাগত ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। নেতৃত্বের মান যখন শিক্ষার মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তখন প্রতিষ্ঠানেও একটি ইতিবাচক ও পেশাদার পরিবেশ গড়ে ওঠে।

একাডেমিক সিদ্ধান্তে দক্ষ নেতৃত্বের প্রয়োজনঃ বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। নতুন কারিকুলাম, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, সৃজনশীল মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক শিক্ষাদর্শ এখন বাস্তবতা। এসব বিষয় বোঝা এবং সঠিকভাবে মূল্যায়ন করার জন্য সভাপতির ন্যূনতম একাডেমিক ধারণা থাকা অপরিহার্য। যদি নেতৃত্ব আধুনিক শিক্ষাদর্শ সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না রাখে, তাহলে অনেক সময় সিদ্ধান্ত পুরনো ধ্যানধারণার ভিত্তিতে নেওয়া হয়। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে এগোতে পারে না। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের জন্য তাই শিক্ষিত নেতৃত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

প্রশাসনিক স্বচ্ছতাজবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণঃ একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় শুধু পাঠদান নয়, বরং আর্থিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বাজেট প্রণয়ন, অডিট রিপোর্ট বিশ্লেষণ, সরকারি নীতিমালা বাস্তবায়ন, এমপিও সংক্রান্ত বিধিবিধান অনুসরণ—এসব কাজের জন্য ন্যূনতম প্রশাসনিক ও শিক্ষাগত সক্ষমতা প্রয়োজন।

যদি সভাপতি এসব বিষয়ে পর্যাপ্ত ধারণা না রাখেন, তাহলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ব্যাহত হতে পারে। অন্যদিকে একজন স্নাতক বা তার বেশি শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন সভাপতি নথিপত্র বুঝতে, নীতিমালা বিশ্লেষণ করতে এবং দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নিতে তুলনামূলকভাবে বেশি সক্ষম হন।

শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির গুরুত্বঃ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাণ হলো শিক্ষার্থীরা। তাদের ভবিষ্যৎ গঠনের দায়িত্ব শুধু শিক্ষক বা অভিভাবকদের নয়; পরিচালনা পর্ষদের নেতৃত্বও এতে সমানভাবে জড়িত। একজন শিক্ষিত সভাপতি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ, প্রযুক্তি শিক্ষা, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশের গুরুত্ব সহজে উপলব্ধি করতে পারেন।
শিক্ষা শুধু পরীক্ষার ফল নয়; এটি মানবিক মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা এবং নাগরিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার প্রক্রিয়া। এই বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গি অর্জনের জন্য নেতৃত্বের শিক্ষাগত পরিপক্বতা প্রয়োজন।

সম্মানসমন্বয়ের পরিবেশ সৃষ্টিঃ একটি প্রতিষ্ঠানে যখন সভাপতি, প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষকবৃন্দ সমমানের বোধ ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে কাজ করেন, তখন পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি পায়। এতে প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব কমে এবং প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত এগোয়। শিক্ষাগত যোগ্যতা এখানে শুধু সনদের বিষয় নয়; এটি চিন্তার গভীরতা ও সিদ্ধান্তের মান উন্নত করে।

যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণ- সময়ের দাবিঃ
বাংলাদেশ যখন জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের পথে এগোচ্ছে, তখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বেও একটি ন্যূনতম মানদণ্ড নির্ধারণ প্রয়োজন। সভাপতির পদটি সমাজের সম্মানজনক ও প্রভাবশালী দায়িত্ব হওয়ায় সেখানে ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করা যুগোপযোগী পদক্ষেপ হতে পারে।
এটি কোনো ব্যক্তিকে ছোট করা নয়; বরং প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় দক্ষতা, জবাবদিহিতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার একটি কাঠামোগত উদ্যোগ। শিক্ষাগত যোগ্যতার মান নির্ধারণ করলে নেতৃত্ব নির্বাচনে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

শেষকথাঃ
একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান নির্ধারিত হয় তার নেতৃত্ব, নীতিনির্ধারণ এবং মূল্যবোধের মাধ্যমে। সভাপতির পদে শিক্ষাগত যোগ্যতার গুরুত্ব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। দক্ষ, সচেতন ও শিক্ষিত নেতৃত্বই পারে একটি প্রতিষ্ঠানকে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলতে।
শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, শিক্ষকদের মর্যাদা এবং প্রতিষ্ঠানের সুশাসন নিশ্চিত করতে সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল না করে বরং ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করা সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত—এমন মতামত আজ ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ শেষ পর্যন্ত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব যত শক্তিশালী হবে, জাতির ভবিষ্যৎ ততই আলোকিত হবে।

দ.ক.সিআর.২৬

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
© 𝐰𝐰𝐰.𝐤𝐚𝐚𝐥𝐧𝐞𝐭𝐫𝐨.𝐜𝐨𝐦
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট