
কালনেত্র: নির্বাচনের নিরাপত্তায় প্রায় দশ লক্ষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন; সাত দিনের বিশেষ পরিকল্পনা কার্যকর, মোটরসাইকেল চলাচল বাহাত্তর ঘণ্টা নিষিদ্ধ।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে দেশব্যাপী সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আজ থেকে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় দশ লক্ষ সদস্য, যা দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ নিরাপত্তা মোতায়েন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই বিপুল নিরাপত্তা বলয়ের লক্ষ্য একদিকে ভোটারদের নির্ভয় পরিবেশ নিশ্চিত করা, অন্যদিকে সহিংসতা ও অপতৎপরতা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট নয় লাখ সত্তর হাজারেরও বেশি সদস্য নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যাব ও আনসার–ভিডিপিসহ বিভিন্ন বাহিনী সমন্বিতভাবে মাঠে কাজ করছে। এর পাশাপাশি নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও কোস্টগার্ডের অতিরিক্ত সদস্য যুক্ত থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বহুমাত্রিক নজরদারি জোরদার হয়েছে। দেশজুড়ে এক হাজারেরও বেশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থেকে মোবাইল কোর্ট ও তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাত দিন, কিছু ক্ষেত্রে আট দিন পর্যন্ত কার্যকর রাখার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা আগামী চৌদ্দ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। সেনাবাহিনী চুয়ান্নটিরও বেশি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করেছে, যা ছয়টি জেলার শত শত উপজেলায় বিস্তৃত। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে গড়ে ষোল থেকে আঠারো জন নিরাপত্তা সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন, আর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এই সংখ্যা আরও বাড়ানো হয়েছে।
নির্বাচনী সহিংসতা ও অনিয়ম প্রতিরোধে সড়কে চলাচলকারী মোটরসাইকেলের ওপর বাহাত্তর ঘণ্টার সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা দশ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত থেকে তেরো ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। পাশাপাশি ভোটের দিন ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল চব্বিশ ঘণ্টার জন্য নিষিদ্ধ থাকবে, যাতে কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানো যায়।
তবে জরুরি ও দায়িত্বশীল কিছু যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, অনুমোদিত নির্বাচন পর্যবেক্ষক, সাংবাদিক এবং রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি প্রাপ্ত প্রার্থীদের যান চলাচলের সুযোগ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে জরুরি সেবাদানকারী অ্যাম্বুলেন্স, ওষুধ পরিবহনকারী যান এবং বিমানবন্দরগামী যাত্রীবাহী যান টিকিট যাচাই সাপেক্ষে চলাচল করতে পারবে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও তাৎপর্য বহন করছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও নির্বাচন কমিশনাররা আশ্বাস দিয়েছেন, এবারের নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করে তুলতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তাঁদের মতে, ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন, আর এই নির্বাচনই দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
দ.ক.সিআর.২৬