লাখাই প্রতিনিধি : লাখাই উপজেলার ৫ নং করাব ইউনিয়ন পরিষদের সচিব জেসমিন আক্তার অসময়ে অফিসে আসা নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে, এদিকে সেবা নিতে আশা ভুক্তভোগীরা অপেক্ষা করতে করতে সময় পার করছেন এবং তাদের মুখে শুনতে হয় নানা গুঞ্জন, কেউ বলছেন জেসমিন আক্তারের উপরে লোক আছে এজন্য উনি এত প্রভাব দেখাচ্ছেন! আমাদের নিয়ে উনার কোন মাথা ব্যথা নেই, উনি কার ইশারায় এমন করছেন আমরা প্রশাসনের কাছে জানতে চাই। এ ছাড়াও ইউপি সচিব জেসমিনের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন সচিব জেসমিন আক্তার সঠিক সময়ে ইউনিয়ন পরিষদের অফিসে আসছেন না, এ নিয়ে নানা প্রশ্ন, এছাড়াও অফিস চলাকালীন সময়ে আগত সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে উনার আচরণ খুবই নেক্কারজনক। এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদে আগত সাধারণ জনগণের সকল প্রকার সনদ, প্রত্যয়ন, নাগরিক সনদ, চেয়ারম্যান সনদ, ওয়ারিশ সনদ, মৃত্যু সনদ, জন্মনিবন্ধন থেকে সরকারি নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে সাধারণ জনগণ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ অনেকের।
এক ভুক্তভোগী বলেন, নির্দিষ্ট সময়ে না আসার কারণ জানতে চাইলে জেসমিন আক্তার বলেন, আমি সঠিক সময়ে আসতে পারি না তাতে কি হয়েছে? যে যা পারেন করেন, আমাকে কেউ কিছু করতে পারবেন না, আমি আমার মত করে আসবো।
এ দিকে ২৮ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) ৫নং করার ইউনিয়নে টিসিবির পণ্য বিতরণে চরম অব্যবস্থাপনা দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময় পার হলেও দুপুর ১২টা পর্যন্ত আসেনি ডিলার। এমনকি ইউনিয়ন সচিবেরও দেরিতে আসাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকে টিসিবির পণ্য নেওয়ার জন্য ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সাধারণ মানুষ দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছিলেন। তবে বেলা সাড়ে ১১টা বেজে গেলেও ডিলার বা তার কোনো প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। এতে অপেক্ষমাণ লোকজন চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা একাধিক ব্যক্তি জানান, টিসিবির পণ্য বিতরণে এমন বিলম্ব নতুন কিছু নয়। প্রায়শই এখানে নির্ধারিত সময়ে পণ্য আসে না।
অন্যদিকে, ইউনিয়ন পরিষদের সচিবেরও দেরিতে আসার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সচিবের দেরিতে অফিসে আসা একটি নিয়মিত চিত্র, কিন্তু এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
এ ঘটনার পর টিসিবির ডিলার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। সাধারণ মানুষের দাবি, এই অব্যবস্থাপনার দ্রুত সমাধান করা হোক এবং যারা এর জন্য দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা( ইউ এন ও)অনুপম দাসের সাথে মুটোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে উনি ফোন রিসিভ করেননি।
দ.ক.সিআর.২৫