1. live@kaalnetro.com : কালনেত্র : কালনেত্র
  2. info@www.kaalnetro.com : দৈনিক কালনেত্র :
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
আহম্মদাবাদের জনপদে জাকির হোসেন পলাশ: জনসেবা, নেতৃত্ব ও পথচলার সংগ্রাম চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে নতুন আইন, অভিযোগ ছাড়াই মামলা করতে পারবে পুলিশ বাহুবলের জিয়া স্বপ্ন নিয়ে গিয়েছিলেন প্রবাসে, ১২ দিন পর ফিরলেন নিথর দেহে চুনারুঘাটে বনবউ খ্যাত কুটুম পাখির দেখা নিজামপুর ইউপি চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী ঘোষণার উদ্যোগ চার গ্রামের উন্নয়ন পরিষদের মাদরাসায় বলাৎকার, কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার সাইবার ঝুঁকিতে সরকারি ওয়েবসাইট, বন্ধ ছয় ব্যাংক শিশু সুরক্ষা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক এবং ইসলামের নির্দেশনা এক মাস কানাডা সফর শেষে স্বস্ত্রীক দেশে ফিরলেন চীফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম  চুনারুঘাটে মাদকসহ আটক যুবকের জরিমানা ও কারাদন্ড

চুনারুঘাটে বনবউ খ্যাত কুটুম পাখির দেখা

আব্দুল জাহির মিয়া
  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

২৪ অক্টোবর সকালে চুনারুঘাট উপজেলার ৯নং রানীগাঁও ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ড বড়জুষ (আঠারো বাঘিয়া) গ্রাম এলাকায় পাখিটি দেখতে পান ইসলামী ছাত্রসানে নেতা শামসুল ইসলাম জাকি। পরবর্তীতে পাখিটি উদ্ধার করে. চা বাগান এলাকায় ছেড়ে দেয়া হয়।

কুটুম পাখি (যা লোকসমাজে ইষ্টিকুটুম, হলদে পাখি বা কালোমাথা বনবউ নামে পরিচিত) মূলত এর উজ্জ্বল গায়ের রঙ এবং মিষ্টি ডাকের জন্য পরিচিত।
কুটুম পাখির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে কয়েকটি ভাগে তুলে ধরা হলো:

শারীরিক গঠন ও রঙ
উজ্জ্বল পালক: এদের সারা শরীর উজ্জ্বল সোনালি হলুদ রঙের পালকে ঢাকা থাকে। তবে মাথা, গলা, ঊর্ধ্ব-বক্ষ এবং ডানার কিছু অংশ কুচকুচে কালো হয়।

চোখ ও ঠোঁট:

এদের চোখ দুটো টকটকে লাল বা রক্তবর্ণ এবং ঠোঁটটি গাঢ় গোলাপি বা কমলা-গোলাপি রঙের হয়ে থাকে।

আকার: এরা আকৃতিতে অনেকটা শালিক বা ময়না পাখির মতো। এদের দৈর্ঘ্য সাধারণত ২৪ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ৬০ থেকে ৯৫ গ্রাম হয়ে থাকে।

পুরুষ ও স্ত্রী পাখির পার্থক্য: স্ত্রী ও পুরুষ পাখি দেখতে প্রায় একই রকম। তবে স্ত্রী পাখির মাথার কালো রঙ পুরুষ পাখির তুলনায় কিছুটা ফ্যাকাসে বা কম উজ্জ্বল হয় এবং পিঠের দিকে জলপাই-সবুজ আভা থাকে।

স্বভাব ও বিচরণ
বৃক্ষচর পাখি: এরা সাধারণত লোকালয়ের কাছাকাছি থাকা ঘন পাতার গাছপালা, আমবাগান, বাঁশঝাড় এবং বনের মগডালে বা পাতার আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পছন্দ করে।

একাকী বা জোড়ায় বিচরণ:

এদের সাধারণত একা অথবা জোড়ায় জোড়ায় ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়।
উড়বার ধরন: এরা ওড়ার সময় বাতাসে কিছুটা ঢেউ খেলিয়ে বা ওপর-নিচ (dipping style) হয়ে শক্তিশালী ও দ্রুত গতিতে ওড়ে।

খাদ্যতালিকা
এরা সর্বভুক বা মিশ্রভুক পাখি। এদের প্রধান খাদ্যের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন গাছের ছোট ফল ও জাম (বিশেষ করে ডুমুর), ফুলের মধু এবং নানাবিধ ছোট কীটপতঙ্গ।

প্রজনন ও বাসা তৈরি
বাসা নির্মাণ: সাধারণত এপ্রিল থেকে জুলাই মাসের প্রজনন ঋতুতে এরা ঘাস, গাছের সরু তন্তু এবং মাকড়সার জাল দিয়ে গাছের উঁচুতে বাটির মতো সুন্দর বাসা বুনে থাকে।

ডিম:

স্ত্রী পাখিটি সাধারণত ২ থেকে ৩টি গোলাপি-সাদা রঙের ডিম পাড়ে, যার ওপর কালো বা লালচে-বাদামি ছোপ থাকে।

ডাক বা কণ্ঠস্বর
কুটুম পাখির ডাক বেশ মিষ্টি ও বাঁশির মতো সুরেলা হয়। তবে কখনো কখনো এরা কর্কশ স্বরে ‘কোয়াক’ বা ‘ক্রররর’ শব্দেও ডেকে ওঠে। গ্রামীণ সমাজে প্রচলিত আছে যে, বাড়ির আশেপাশে এই পাখি ডাকলে মেহমান বা “কুটুম” আসে, আর এই লোকবিশ্বাস থেকেই পাখিটির নাম হয়েছে ‘ইষ্টিকুটুম’।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত উপকারী এই পাখিটি বর্তমানে বনভূমি ও গাছপালা কমে যাওয়ার কারণে প্রকৃতি থেকে দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।

দ.ক.২৬

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© 𝐰𝐰𝐰.𝐤𝐚𝐚𝐥𝐧𝐞𝐭𝐫𝐨.𝐜𝐨𝐦
Theme Customized BY LatestNews