1. live@kaalnetro.com : কালনেত্র : কালনেত্র
  2. info@www.kaalnetro.com : দৈনিক কালনেত্র :
বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
ঘাস খাইয়ে ব্রয়লার মুরগি উৎপাদনের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে একদল গবেষক শিক্ষায় শিক্ষকের ভূমিকা আমুরোড স্কুল অ্যান্ড কলেজের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচিত আক্তারুজ্জামান চাটপাড়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসায় ছাত্রকে ছু/রি/কা/ঘা/ত হবিগঞ্জে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত প্রকৃতির আয়নায় আত্মপরিচয়, ভালোবাসা ও বাংলাদেশের অনন্ত সৌন্দর্য আজমিরীগঞ্জে নেশাগ্রস্থ পুত্রের হাতে ক্যান্সার আক্রান্ত পিতা খুন ২৪ বছরের বন্দিজীবনের অবসান : নতুন জীবনের পথে কয়েস আহমেদ হবিগঞ্জের তরুণ আলোকচিত্রী মারুফের ‘বোটানিক্যাল সাইলেন্স’, প্রকৃতির সৌন্দর্যে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাজারে নজরদারি বাড়াতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ

শিক্ষায় শিক্ষকের ভূমিকা

মো. সোলায়মান আলী
  • প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬

মানবদেহের মূল কাঠামো যেমন মেরুদণ্ডের ওপর নির্ভরশীল, তেমনি একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও প্রগতিশীল সমাজ গঠনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলেন শিক্ষক। মেরুদণ্ড ছাড়া মানুষ যেমন সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে না, তেমনি যোগ্য, দক্ষ ও আদর্শ শিক্ষক ছাড়া কোনো জাতি বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না। অন্ধকার দূর করে আলোর দিশা দেখানো এবং অজ্ঞতার অন্ধকার ভেদ করে একটি আলোকিত প্রজন্ম গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান কারিগর হলেন শিক্ষক।

চরিত্র গঠন ও মানসিক বিকাশ

শিক্ষকের কাজ কেবল পাঠ্যবইয়ের কয়েকটি অধ্যায় পড়ানো কিংবা পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীকে প্রস্তুত করা নয়। তাঁর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো শিক্ষার্থীর সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটানো এবং তার মধ্যে নৈতিকতা, সততা, মানবিকতা ও মূল্যবোধের বীজ বপন করা।

একটি শিশু যখন পরিবার থেকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পরিসরে প্রবেশ করে, তখন শিক্ষকই তাকে ভালো-মন্দের পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করেন। সত্য কথা বলা, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা, গুরুজনকে শ্রদ্ধা করা, ছোটদের স্নেহ করা এবং অন্যের প্রতি সহমর্মী হওয়ার মতো মৌলিক মানবিক গুণাবলি গড়ে ওঠে শিক্ষক, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত প্রভাবে। আর এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দার্শনিক অ্যারিস্টটলের নামে বহুল উদ্ধৃত একটি বক্তব্য রয়েছে—শিক্ষকেরা কেবল জ্ঞান দেন না, তাঁরা মানুষকে সুজীবনের পথ দেখান। তাই একজন আদর্শ শিক্ষক শুধু একজন পাঠদাতা নন; তিনি একই সঙ্গে শিক্ষার্থীর পথপ্রদর্শক, অভিভাবক ও অনুপ্রেরণার উৎস।

জাতি গঠন ও মানবসম্পদ উন্নয়নে শিক্ষক

একটি দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার মেধাবী ও দক্ষ জনশক্তি। আর এই সম্ভাবনাময় জনশক্তিকে জ্ঞান, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার প্রধান কারিগরদের মধ্যে শিক্ষক অন্যতম।

পেশাজীবী তৈরির কারিগর: দেশের ডাক্তার, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, বিচারক, প্রশাসক, শিক্ষক, সাংবাদিক, উদ্যোক্তা কিংবা রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্ব—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রের মানুষই কোনো না কোনো শিক্ষকের কাছ থেকে জ্ঞান ও দিকনির্দেশনা পেয়েছেন।

নেতৃত্বের বিকাশ: ভবিষ্যতে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য যে যোগ্য, সৎ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব প্রয়োজন, তার ভিত্তি গড়ে ওঠে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। শিক্ষার্থীর চিন্তাশক্তি, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা, দায়িত্ববোধ ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সামাজিক সংস্কার: কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস, বৈষম্য ও অপরাধপ্রবণতার বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি এবং যুক্তিবাদী, মানবিক ও প্রগতিশীল সমাজ গঠনে শিক্ষকের ভূমিকা অনস্বীকার্য। একজন আদর্শ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করার শিক্ষা দেন না; তিনি তাদের একজন ভালো মানুষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হয়ে ওঠার পথও দেখান।

পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষকের নতুন ভূমিকা

একবিংশ শতাব্দীতে প্রযুক্তির অভূতপূর্ব বিকাশ ঘটেছে। ইন্টারনেট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে পৃথিবীর বিপুল পরিমাণ তথ্য এখন মানুষের হাতের নাগালে। কিন্তু তথ্যের সহজলভ্যতা মানেই জ্ঞান অর্জন নয়।

কোন তথ্য সঠিক, কোনটি ভুল; কীভাবে তথ্য বিশ্লেষণ করতে হবে; কোনটি গ্রহণযোগ্য এবং কোনটি বর্জনীয়—এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের যুক্তিবোধ, নৈতিকতা ও বিচারবোধ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তি শিক্ষকের সহায়ক হতে পারে, কিন্তু শিক্ষকের বিকল্প নয়। প্রযুক্তি তথ্য দিতে পারে, কিন্তু একজন আদর্শ শিক্ষক শিক্ষার্থীর মধ্যে মানবিকতা, নৈতিকতা, আত্মবিশ্বাস, দায়িত্ববোধ ও সঠিক দিকনির্দেশনা তৈরি করেন।

বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে শিক্ষকের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ ভবিষ্যতের শিক্ষার্থীদের শুধু তথ্য জানা নয়, তথ্য যাচাই, বিশ্লেষণ, সৃজনশীলভাবে চিন্তা করা এবং প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহার শেখাও প্রয়োজন।

শিক্ষকের মর্যাদা ও বর্তমান বাস্তবতা

যে জাতি শিক্ষকদের যত বেশি সম্মান ও গুরুত্ব দেয়, সে জাতির জ্ঞান, দক্ষতা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের সম্ভাবনাও তত বেশি। বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে শিক্ষকতা পেশাকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয় এবং শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করা হয়।

তবে আমাদের সমাজে অনেক শিক্ষক এখনো তাঁদের প্রাপ্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত। অথচ একটি সমৃদ্ধ ও জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য শিক্ষকদের মর্যাদা, কর্মপরিবেশ, প্রশিক্ষণ, গবেষণার সুযোগ এবং উপযুক্ত আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

শিক্ষককে সম্মান করা মানে শুধু একজন ব্যক্তিকে সম্মান করা নয়; বরং জ্ঞান, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সম্মান করা। তাই শিক্ষকদের সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধি এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করা রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

উপসংহার

শিক্ষক হলেন সেই আলোকবর্তিকা, যিনি নিজে জ্ঞান ও আদর্শের আলো ধারণ করে অন্যকে আলোকিত করেন। তাঁর হাতে শুধু একটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নয়, একটি প্রজন্ম এবং পরোক্ষভাবে একটি জাতির ভবিষ্যৎও গড়ে ওঠে।

একটি সৎ, শিক্ষিত, দক্ষ, মানবিক ও দায়িত্বশীল জাতি গঠনে শিক্ষকের কোনো বিকল্প নেই। তাই শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান, মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করে তোলা রাষ্ট্র, সমাজ ও নাগরিক—সবার দায়িত্ব। কারণ শিক্ষকের হাত ধরেই সূচিত হয় একটি জাতির টেকসই, সমৃদ্ধ ও আলোকিত ভবিষ্যৎ।

লেখক: প্রভাষক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ
দ্বারিকা পাল মহিলা ডিগ্রি কলেজ, শ্রীমঙ্গল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© 𝐰𝐰𝐰.𝐤𝐚𝐚𝐥𝐧𝐞𝐭𝐫𝐨.𝐜𝐨𝐦
Theme Customized BY LatestNews