
হবিগঞ্জের বাহুবল সদর ইউনিয়নের হরিতলা এলাকায় রাতের আঁধারে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাবির আহমেদ স্বাক্ষরিত এক পত্রে (স্মারক নং: ০৫.৪৬.৩৬০০.০২৪.৯৯.০০২.২৩- ৩৩৬, তারিখ: ১৭ জুন ২০২৬) হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারকে রাত ১১ টা হতে সকাল ৮ টা পর্যন্ত পুলিশ টহল জোরদার করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
পত্রে উল্লেখ করা হয়, বাহুবল হরিতলা এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে একটি চক্র রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। উত্তোলিত বালু পরিবহনের জন্য সাতকাপন ইউনিয়নের ‘বাহুবল টু মধুপুর চা বাগান ভায়া হামিদনগর’ রাস্তাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক বারবার টাস্কফোর্স ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেও এই অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। অধিকাংশ সময়ই মোবাইল কোর্ট পরিচালনার গোপন তথ্য দুষ্কৃতকারীরা আগেই পেয়ে যাওয়ায় অভিযান ব্যর্থ হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে গত ১১ জুন ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত বাহুবল উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা সভার সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, বালু পাচারের রুটগুলোতে রাত ১১টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত পুলিশ টহল জোরদার করা হবে। সেই সিদ্ধান্তের আলোকে পরিবেশ ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষার্থে এবং অবৈধ বালু সিন্ডিকেটের কার্যক্রম বন্ধে এই ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পত্রে পুলিশ সুপারকে অনুরোধ জানানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কতিপয় রাজনৈতিক কর্মী ও কথিত সাংবাদিক প্রশাসনকে ম্যানেজ করে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট হরিতলা ধলিয়াছড়া থেকে রাতের আঁধারে বালু পাচার করে চলছে। এতে বালু বোঝাই ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচলে এলাকার রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ। বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত এক্সেবেটর এবং ট্রাক্টরের বিকট শব্দে ঘুম ভাংছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন সহ বিদ্যুৎ,জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের টাস্ক ফোর্স অনেকবার অভিযান চালিয়েও বালু পাচার বন্ধ করতে পারছে না।
বাহুবল উপজেলা নির্বাহী অফিসার উজ্জ্বল রায় জানান, ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ১ টা থেকে ভোর ৬ টা পর্যন্ত হামিদনগর, চলিতাতলা ও দয়ালপুর ও দারিপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫শ ফুট বালু সহ ২টি ট্রাক্টর জব্দ করা হয়। এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর রাতে হরিতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বেকু জব্দ ও দুই ব্যক্তিকে জেল-জরিমানা করা হয়েছে। অবৈধভাবে বালু পাচারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে এ প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান।
দ.ক.২৬