বানািয়াচংয়ে র্যাব এর অভিযানে ‘জীবন মিয়া হত্যা মামলা’র ৯ আসামি গ্রেফতার
জিয়াউর রহমান (সাজন): র্যাব-৯ এর অভিযানে হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে প্রতিবেশীদের সাথে বিরােধের জেরে ‘জীবন মিয়া হত্যা মামলার ০৯ জন আসামি গ্রেফতার র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এলিট ফোর্স হিসেবে আত্মপ্রকাশের সূৃচনালগ্ন থেকেই বিভিন্ন ধরনের নৃশংস ও ঘৃণ্যতম অপরাধ বিশেষ করে মাদক উদ্ধার, হত্যা মামলা, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, জঙ্গি দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন অপরাধীদের গ্রেফতারেক অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। এছাড়াও যে কোন ধরনের সহিংসতা প্রতিরোেধে র্যাবের প্রতিটি সদস্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে জনসাধারণের জন্য একটি নিরাপদ বাসযােগ্য সমাজ তথা দেশ বিনির্মাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ২। ঘটনার বিবরণে জানা যায় যে, ভিকটিম জীবন মিয়া হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানাধীন গা্জীপুর এলাকার বাসিন্দা। বিবাদীদের সাথে ভিকটিমের পরিবারের লাকজনদের দীর্ঘদিন যাবত
বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরােধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বিবাদীরা ভিকটিমের পরিবারের লােকজনদের ধানের খলা ব্যবহার করতে বাধা প্রদান করে। বিবাদীদের বাধা উপেক্ষা করে ধানের খলা ব্যবহার
করতে গেলে বিবাদীরা গত ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ইং তারিখ আনুমানিক দুপুর ১৩.৩০ ঘটিকার সময় ভিকটিমের পরিবারের লােকজনদের দেশীয় অস্ত্রশন্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে গুরুতর জখম করে।
উক্ত বিষয় সমাধানের জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য বক্তিবর্গ সালিশ করতে চাইলে বিবাদীরা তাতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের পরিবারের লোকজন আদালতে মামলা করতে গেলে বিজ্ঞ আদালত উতক্ত বিষয়ে নিয়মিত মামলা রুজু করার জন্য বানিয়াচং
থানাকে নির্দেশ দেন। বিবাদীরা উক্ত সংবাদ শুনে গতজ ২১/০৫/২০২৬ খ্রি. তারিখ সকাল অনুমান ১০.০০ ঘটকার সময় দেশীয় অন্ত্শন্ত্র দা, রামদা, ফিকল, টেটা, লোেহার রড়, বাশের লাঠি ইত্যাদি নিয়ে ভিকটিমের বাড়ির পাশে গিয়ে তার পরিবারের লোকজনদের বিভিন্ন অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে।
গালিগালাজের শব্দ শুনে ভিকটিম ঘটনাস্থলে আসলে ০৫নং বিবাদী আবুল মিয়ার হুকুমে অন্যান্য বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্রশন্ত্র দ্বারা ভিকটিমের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এলােপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। পরবর্তীতে ভিকটিমের চিত্কারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে বিবাদীরা ঘটনাস্থল
থেকে চলে যায়। অতঃ্পর ভিকটিমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎ্সক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেড়িকেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎ্সাধীন অবস্থায় গত ০১/০৬/২০২৬ খ্রি. তারিখ ভিকটিম মৃত্যুবরণ করেন। উতক্ত ঘটনায়
ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে হবিগঞ্জ জলার বানিয়াচং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরই প্রেক্ষিতে আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-৯ এই ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোেয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। ৩ এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প,
হবিগঞ্জ এর একটি আভিযানিক দল পৃথক দুটি অভিযানে অদ্য ১৮ জুন ২০২৬ খ্রি. তারিখ আনুমানিক সকাল ০৭.০৫ ঘটিকার সময় হবিগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন সুলতান মাহমুদপুর এলাকায় এবং সকাল ০৮.১০ ঘটিকার সময় লোকড়াবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং
থানার মামলা নং-০৭, তারিখ- ০৫/০৬/২০২৬ খ্রি., ধারা-১৪৩/১৪৭/১৪৮/৩২৩ /৩২৪/৩২৬/৩০২/৩০৭/১১৪/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০; এর মূলে হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে প্রতিবেশীদের সাথে বিরোেধের জেরে ‘জীবন মিয়া হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ০৩, ০৫, ০৬, ০৮, ১০, ১১, ১৯, ২৪, ২৬নং পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিগণ- ১।
কাজল মিয়া (৫০), পিতা- মৃত রাজধর মিয়া, সাং- আনােয়ারপুর, ০২। আবুল মিয়া (৫৫), ০৩। আওয়াল মিয়া (8০), উভয় পিতা- মৃত ভাসানি মিয়া, ০৪।। মকসুদ আলী (৪৫), ০৫। আশ্বব আলী (৪০), ০৬। নজরুল মিয়া (৩৫), সকলের পিতা- মৃত জয়দর মিয়া, ০৭। মােফাজ্জল মিয়া (২৫), পিতা- চানফর মিয়া, সাং- পৈলারকান্দি, ০৮ ।মােযফোজ্জল মিয়া ©রাজা
মিয়া (৩২) এবং ০৯। চয়ন মিয়া (১৮), উভয় পিতা- মৃত নুরুল হক সর্ব সাং- গাজীপুর, থানা- বানিয়াচং, জেলা- হবিগঞ্জ। ৪ পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্য গ্রেফতারকৃত আসামিদের হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানায় হস্তান্তর করা হয়ছে। এ
ছাড়াও দেশের আইন-শৃঙ্লা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯ এর চলমান গোেয়েন্দা তৎ্পরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দ.ক.সিআর.২৬