
কালনেত্র প্রতিবেদন : আগামীকাল চাঁদ দেখা গেলেই শুরু হবে মুসলিম উম্মাহ’র সিয়াম সাধনার মাস রমজান। মাসটিকে ঘিরে নানা রকমের প্রস্তুতি রয়েছে ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের মাঝে। প্রথম রোজায় ভালো কিছু খেয়ে রোজা শুরুর প্রত্যাশা থাকে সব রোজাদারের। তাই বাজারে আনাগোনা থাকে সাধারণ ক্রেতাদের। এই বিষয়টিকে পূঁজি করে অনেক অসাধু ব্যবসায়ীরা বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি করে থাকেন এবং জনমনে সৃষ্টি হয় অসন্তোষ। এমনটিই হয়েছে চুনারুঘাট উপজেলার বাজারগুলোতে। রমজান শুরুর ঠিক একদিন আগেই সাধারণ ক্রেতাদের মধ্য থেকে অভিযোগ উঠেছে বাজারে তৈরি করা হয়েছে গ্যাসের কৃত্রিম সংকট। অসাধু ব্যবসায়ীরা গ্যাস মজুত করে সংকট তৈরি করে পরবর্তীতে বেশি দামে বিক্রি করার চেষ্টা করছেন।
সেলিম আহমেদ নামের একজন চা বিক্রেতা বলেছেন, অসাধু চক্র গ্যাসের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে রেখেছে। তারা বেশি দামে বিক্রি করার জন্য বাজার থেকে গ্যাস নাই করে দেয়। এদের চিহ্নিত করতে হবে। এই সরকারের কাছে আমাদের দাবি, বাজারে গ্যাসের সংকট দূর করতে হবে। যদিও গ্যাস ব্যবসায়ীরা বলছেন,জাতীয়ভাবে সমস্যার কারণে বাজারে গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে। কেউ সিন্ডিকেট করছেন না। বাজারে যে পরিমাণ গ্যাস সাপ্লাই দেওয়ার কথা সে পরিমাণ গ্যাস সাপ্লাই দিচ্ছেন না কর্তৃপক্ষ। এজন্য বাজারে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন গ্যাস ব্যবসায়ী বলেছেন, মধ্যস্বত্বভোগী কিছু ব্যবসায়ী গ্যাস মজুত করে ঠিকাছে। কিন্তু এখন তো বাজারে কেউই গ্যাস পাচ্ছে না। জাতীয়ভাবে গ্যাসের সংকট আছে। আমি গত একমাসে মাত্র ৮৫ সিলিডিার গ্যাস পেয়েছি বিক্রির জন্য। ব্যবসা চালাব কীভাবে। চাহিদামতো ক্রেতাদের গ্যাস না দিতে পারলে তারা আমাদের ভুল বুঝবেন। আসলেই সারা দেশে গ্যাসের সংকট। রাষ্ট্রীয়ভাবে এই সংকট দূর করতে হবে।
এদিকে, উপজেলার বাজারগুলোতে কাঁচা বাজারে আছে কিছুটা স্বস্তি। আলু, বেগুন, টমেটো ও সিমসহ বেশ কিছু কাঁচা বাজারপণ্যের দাম রয়েছে অপরিবর্তিত। শুঁটকির দাম বাড়তি অবস্থায় আছে। কলার দামে আগুন লেগেছে বললেও ভুল হবে না। বাড়তি আছে পেঁয়াজের দাম। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকায়। এলসি বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ৯৫ টাকায়। গত সপ্তাহে এই এলসির দাম ছিলো ৮০ টাকা। কাঁচা মরিচের দাম কেজি প্রতি বেড়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়েছে কেজি প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা। ছোলা, তেল, ডাল ও আদাসহ অন্যান্য মসলা পণ্যে দাম অপরিবর্তিত আছে। লেবুর দাম চূড়ান্ত বাড়তি অবস্থায় আছে। যে লেবু গত দু’দিন আগে ১০ টাকা পিস ছিলো সেই লেবু এখন কেনা দামও পড়ছে ১৭ থেকে ২০ টাকা। লাল শাকের দামও বাড়তি। ৩০/৩৫ টাকার লাল শাক এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। লেবু আর লাল শাকের দাম নিয়ে অসন্তুষ্ট সাধারণ ক্রেতারা।
বেশ কয়েকজন ক্রেতা জানিয়েছেন, পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেড়েছে। অন্যান্য সবজি, পণ্য আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। তবে রোজা বাড়ার সাথে সাথে পণ্যের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কাও করেছেন তারা। সরকারের কাছে তাদের দাবি, যে কোনো মূল্যে এই রোজায় যেনো পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা হয়। বাজার নিয়ে যেনো কোনো সিন্ডিকেট কেউ তৈরি করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখার আহ্বান করেন তারা।
দ.ক.সিআর.২৬