
সিলেট নগরীর নাইওরপুল এলাকার বাদিনীর বসতবাড়িতে হামলা, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে একই পরিবারের কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জেসমিন বেগম (৩৯) নামের এক মানষিক বিপর্যস্ত বিধবা নারী।
অভিযোগে জেসমিন বেগম উল্লেখ করেন, তাঁর স্বামী মোরশেদ বকস মারা যাওয়ার পর তিন সন্তানকে নিয়ে তিনি বসবাস করছেন। তাঁর অভিযোগ, পরিবারের কয়েকজন সদস্যের অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে বাদিনীর বসতবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় ১ নম্বর বিবাদী ফারহানা হক, ২ নম্বর বিবাদী বুশরা হক ও ৩ নম্বর বিবাদী ইশরা বকসসহ অন্যরা তাঁর বাসায় এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারামারি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
জেসমিন বেগমের দাবি, একপর্যায়ে তাঁকে মারধরের জন্য উসকানি দেওয়া হয় এবং কয়েকজন মিলে তাঁর ওপর হামলা চালান। এ সময় তাঁকে ঘুষি, লাথি ও চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাঁর জা নিশাত খানমকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, বিবাদীদের এমন আচরণের কারণে তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও পারিবারিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানালে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
জেসমিন বেগমের অভিযোগ, তাঁকে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করা হয়েছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও জখম হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে কোতোয়ালী মডেল থানার অধীনস্থ সোবহানীঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা খলিলুর রহমান এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন ঘটনার সত্যতা আছে, তবে আপোষ মিমাংসার চেষ্টা চলছে। আপোষ মিমাংসা না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত ফারহানা হক জৈন্তাপুর উপজেলার চারিকাটা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দুল হক সাহেব এর মেয়ে।
দ.ক.২৬