
পারভেজ হাসান লাখাই: হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলার অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ লোকড়া-মাদনা সড়কটি এখন যাত্রী ও চালকদের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত ও ভাঙনের ফলে এই পথে যাতায়াতকারী দুই জেলার কয়েক হাজার মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে।
মাদনা থেকে জেলা শহর হবিগঞ্জে যাওয়ার একমাত্র পথ এই সড়কটি। লাখাই উপজেলার বুল্লা ইউনিয়নের প্রায় ১৩টি গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী কিশোরগঞ্জ জেলার ৮-১০টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম এটি। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন।
মাদনা বাজার থেকে ভুমাপুর পর্যন্ত সড়কের অবস্থা সবচাইতে ভয়াবহ। সরেজমিনে দেখা যায়, পাকা ও ঢালাই রাস্তার বিভিন্ন স্থান ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক জায়গায় ঢালাই ভেঙে গিয়ে রাস্তার ভেতরের রড বের হয়ে আছে। কোথাও সেই রডগুলো সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, আবার কোথাও হেলে আছে, যা যেকোনো যানবাহনের চাকা পাংচার বা বড় দুর্ঘটনার জন্য যথেষ্ট। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে মরণফাঁদে পরিণত হয়।
রাস্তার বেহাল দশার কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন রোগী, বৃদ্ধ এবং গর্ভবতী মহিলারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তা খারাপ থাকায় মুমূর্ষু রোগীদের সঠিক সময়ে জেলা সদর হাসপাতালে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। এছাড়া এই অঞ্চলে ৮-১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২টি উচ্চ বিদ্যালয়, ১টি কলেজ ও একাধিক ক্লিনিক রয়েছে। প্রতিদিন শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই পথে যাতায়াত করলেও গন্তব্যে পৌঁছাতে তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দেরি হয়ে যায়।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীরা জানান, এই রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই সিএনজি, মোটরসাইকেল, টমটম ও অটোরিকশা উল্টে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানান, পাকা রাস্তা থাকা সত্ত্বেও ভাঙাচোরা অবস্থার কারণে ছেলেমেয়েরা সময়মতো স্কুল-কলেজে পৌঁছাতে পারছে না। বর্ষা মৌসুমে অনেকে বাধ্য হয়ে নৌকায় যাতায়াত করলেও তাতে সময় ও খরচ দুটোই বেশি লাগে।
মাদনা বাজারে পুলিশের একটি ফাঁড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ বাজার থাকা সত্ত্বেও রাস্তার এই জীর্ণ দশা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। যাতায়াতের সময় ও ভোগান্তি কমাতে এবং বড় ধরনের প্রাণহানি এড়াতে লোকড়া-মাদনা সড়কটি দ্রুত পুনরায় সংস্কার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
দ.ক.সিআর.২৬