চুনারুঘাট উপজেলার দক্ষিণের পাকা সড়কটি হবিগঞ্জ জেলার অন্যতম ব্যস্ত সড়ক হিসেবে বিবেচিত। প্রতিদিন এই সড়কে বিভিন্ন যানবাহন ও পথচারী মিলিয়ে লক্ষাধিক যাত্রী চলাচল করে থাকেন। এ ছাড়া নিম্নআয়ের মানুষের অসংখ্য দোকানপাট রয়েছে রাস্তার দুই পাশে। সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় বনায়ন করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলা শহর থেকে দক্ষিণে আসামপাড়া বাজার পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে বড় বড় অনেক গাছ মরে গেছে। কিন্তু সেগুলো অপসারণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সস্থানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে গাছগুলো। এমন অবস্থায় চরম আতঙ্ক আর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, মৃত্যু আতঙ্ক ছড়াচ্ছে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সহস্রাধিক মৃত গাছ। যেকোনো সময় পথচারী কিংবা গণপরিবহনের ওপর ভেঙে পড়তে পারে মরা গাছ। এমনটা ঘটলে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে। বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পায়। এমন পরিস্থিতিতে বন বিভাগ বলছে, সরকারি সড়কের গাছ কাটাসংক্রান্ত দাফতরিক জটিলতা রয়েছে। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে বন বিভাগ।
এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে চুনারুঘাট উপজেলা বন কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী বন সংরক্ষণ কর্মকর্তা মাহাদি হাসান বলেন, যদি সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির গাছ হয় তাহলে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্থানীয় উপকারভোগীদের মাধ্যমে লিখিত অভিযোগ দিতে হবে। অভিযোগ পাওয়ার পর গাছ অপসারণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সরেজমিন উপজেলার রাজার বাজার এলাকা ও আসামপাড়া বাজারে যাওয়ার আগে সড়কের পাশে অসংখ্য মরা গাছ দেখা গেছে। এর অধিকাংশই আকাশমনি ও শিশু প্রজাতির গাছ বলে জানান স্থানীয়রা।
এ সময় আশ্রাবপুর গ্রামের হাফিজুর রহমান বাবুল (৫৫) বলেন, বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিতে মরা গাছ ভিজে থাকে। এতে ঝুঁকি আরও বাড়ে। মৌখিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কির্তাই গ্রামের শিক্ষক বাঙ্গাল আবুল বশির বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মরা গাছগুলো স্বস্থানে বিপজ্জনকভাবে দাঁড়িয়ে আছে। ছোট খাট দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে।
দ.ক/আ-২৬