হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মুনশি মুসতারিন জামাল প্রমা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অর্থনীতি বিভাগ থেকে অনার্স ফাইনাল পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম (ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট) হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের বিএসএস (অনার্স) চূড়ান্ত পরীক্ষায় তিনি সিজিপিএ (CGPA) ৪.০০ এর মধ্যে ৩.৯৬ পেয়ে এই অনন্য কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। প্রমার এই গৌরবোজ্জ্বল সাফল্যে চুনারুঘাট উপজেলা জুড়ে আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মুনশি মুসতারিন জামাল প্রমা ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ও অধ্যবসায়ী ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের একটি প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিভাগ থেকে এমন সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করায় তাঁর পরিবার, শিক্ষক এবং সহপাঠীরা অত্যন্ত আনন্দিত।
মেয়ের এই অভাবনীয় সাফল্যে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে প্রমার পিতা শিক্ষক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব শফিকুর রহমান জামাল বলেন, "প্রমার এই সাফল্য তার কঠোর পরিশ্রম, একাগ্রতা এবং শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনার ফসল। সে যেন ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে পারে, সেজন্য আমি সকলের কাছে দোয়া চাই।"
এদিকে প্রমার এই অসাধারণ সাফল্যে চুনারুঘাট উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও শিক্ষক মহলের পক্ষ থেকে তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হচ্ছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রমার এই কৃতিত্বের প্রশংসা করে তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছেন। প্রমা ভবিষ্যতে আরও উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে চান বলে জানা গেছে।
প্রমার পিতা শফিকুর রহমান জামাল গাজীপুরের ঐতিহ্যবাহি হাজী মজলিশ মিয়া একাডেমি'র অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মাতা শাহীন আক্তার চুনারুঘাট উপজেলার টেকারঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা।
মুনশি মুসতারিন জামাল প্রমা তাঁর মা-বাবার মেজো কন্যা। তাঁর এক বোন মুনশি মুনতারিন জামাল প্রজ্ঞা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সহকারী ডেন্টাল সার্জন হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
তাঁর পরিবারে বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে; তাঁর বড় চাচা মুনশি আবদুল রহিম জুয়েল ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা কমান্ডার এবং হবিগঞ্জ জেলা যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
একটি চাকুরিজীবী ও শিক্ষানুরাগী পরিবার থেকে উঠে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে তাঁর এই অনন্য গৌরবময় অর্জন সর্বমহলে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।
দ.ক.সিআর.২৬