হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রানিগাঁও ইউনিয়নে সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষ ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী উপকারভোগীদের সিদ্ধ চাল দেওয়ার কথা থাকলেও, ডিলারদের মাধ্যমে নিম্নমানের আতব চাল বিতরণ করায় এই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
৪ নভেম্বর (বুধবার) রানিগাঁও ইউনিয়নে চাল বিতরণের সময় এ অনিয়ম ধরা পড়ে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর অভিযোগ
রানিগাঁও ইউনিয়নের ইউপি সদস্য (মেম্বার) কাসেম আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে গণমাধ্যমকে জানান, সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্র মানুষের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে সিদ্ধ চাল সরবরাহ করার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা না করে সম্পূর্ণ নিম্নমানের আতব চাল দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান,সাধারণ মানুষ সাধারণত সিদ্ধ চাল খেতেই অভ্যস্ত এবং এই চালের ভাত তাদের প্রধান খাদ্য। কিন্তু হঠাৎ করে নিম্নমানের আতব চাল দেওয়ায় গরিব ও দুস্থ মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই এমনটি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় সাধারণ উপকারভোগীরাও অভিযোগ করেছেন, এই আতব চাল যেমন নিম্নমানের, তেমনি রান্নার পর খাওয়ার উপযুক্তও থাকে না বললেই চলে। সরকারি সহায়তা হিসেবে পাওয়া এই চাল নিয়ে ডিলাররা নয়ছয় করছেন বলে তাদের ধারণা।
হতদরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকার যে মহৎ উদ্দেশ্যে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু করেছে, সেখানে এ ধরনের অনিয়ম ও নিম্নমানের চাল সরবরাহের ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দ্রুত এই চাল বিতরণ বন্ধ করে মানসম্মত সিদ্ধ চাল সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা।
এ বিষয়ে চুনারুঘাট জেলা খাদ্য অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী, যাতে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং সঠিক চাল উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছায়।
চুনারুঘাট খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর বলেন আতপ চাল নিয়মিত রুটেশন হিসেবে সরবরাহ করা হচ্ছে। কি কারনে নিম্নমানের আতব চাল দেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি কোন সদত্তর না দিয়ে তিনি বলেন আমি বদলি হয়ে গেছি আগামীকাল দায়িত্ব হস্তান্তর করব।
কালনেত্র