হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার ময়নাবাদ গ্রামের মতো একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত জাহানারা চৌধুরী উইমেন্স কলেজের অধিকাংশ ছাত্রী দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েও শিক্ষকদের আন্তরিক পাঠদান, অভিভাবকদের সচেতনতা ও ছাত্রীদের অদম্য মনোবলে এইচএসসি পরীক্ষায় দেশের অন্যান্য কলেজের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে।
নানা প্রতিকূলতা, সীমাবদ্ধতা ও প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়েই তাদের শিক্ষাজীবন এগিয়ে চলছে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মানবিক ও শিক্ষানুরাগী মামুন চৌধুরীর সার্বিক সহযোগিতা ও তত্বাবধানে।ফলাফল নিয়ে মামুন চৌধুরী বলেন,আমরা বিশ্বাস করি,আমাদের মেয়েদের স্বপ্ন, মেধা, নিরলস প্রচেষ্টা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর্থিক সীমাবদ্ধতাসহ সকল প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতাকে জয় করতে সক্ষম হয়েছে।
আমাদের নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অক্লান্ত পরিশ্রম, আন্তরিকতা ও নিরন্তর অনুপ্রেরণা ছাত্রীদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে, যার প্রতিফলন ঘটেছে এই অসাধারণ ফলাফলে।৬টি A গ্রেডসহ আমাদের ছাত্রীদের এই গৌরবোজ্জ্বল ফলাফল শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাফল্য নয়, এটি একটি সুবিধাবঞ্চিত জনপদের মেয়েদের সম্ভাবনা, আত্মবিশ্বাস ও এগিয়ে যাওয়ার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।আমাদের স্বপ্ন শুধু উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না, বরং আমরা চাই, এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি মেধাবী মেয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাক, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করুক এবং একদিন দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখুক।আমাদের ছাত্রীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সকল সুযোগ-সুবিধা ও সহযোগিতা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।তিনি সকল কৃতী ছাত্রীদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন এবং শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক এবং এই প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রায় যারা আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।মামুন চৌধুরী আরও বলেন, আমাদের এই অর্জন শেষ গন্তব্য নয়, বরং একটি দীর্ঘ ও সম্ভাবনাময় যাত্রার শুভ সূচনা।
আমরা স্বপ্ন দেখি, একদিন ময়নাবাদের এই ছোট্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই বেরিয়ে আসবে দেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, গবেষক ও আলোকিত মানুষ।শিক্ষার আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি কন্যাশিশু, বদলে যাক একটি জনপদ, এগিয়ে যাক বাংলাদেশ।ওই প্রতিষ্ঠানের পাশের হার ৯৪.৪৫ শতাংশ।