পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে সতর্কবার্তার পর বাংলাদেশ ব্যাংকসহ ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্ধ থাকা সরকারি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে সরকারি মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (বিজি প্রেস), বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস), পেট্রোবাংলা ও ডিজিটাল ভূমিসেবার ওয়েবসাইট। সম্ভাব্য সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়ানো এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে একাধিক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট বন্ধ পাওয়া যায়। তবে ওয়েবসাইট বন্ধ থাকার অর্থ এই নয় যে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। নিরাপত্তাঝুঁকি যাচাই ও সম্ভাব্য ক্ষতি ঠেকাতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেও ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হতে পারে।
বন্ধ থাকা ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংক হলো অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক, এসবিএসি ব্যাংক ও বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) থেকে তাদের ওয়েবসাইট বন্ধ রেখেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খানের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ওয়েবসাইটটি চালু করা হবে না। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সংযোগ স্বাভাবিক রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এদিকে, পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটি মোকাবিলায় ডিজিটাল ভূমিসেবার সার্ভারেও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চালানো হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার বরাতে প্রথম আলো জানিয়েছে, শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভূমিসেবার সার্ভার বন্ধ রাখার কথা ছিল। এ সময়ে অনলাইনে জমির নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধসহ বিভিন্ন সেবা পাওয়া যায়নি।
পিএইচপির নিরাপত্তা দুর্বলতা নিয়ে গত ২২ অক্টোবর জরুরি সতর্কবার্তা জারি করে সরকারের সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক সংস্থা বিজিডি ই-গভ সার্ট। সতর্কবার্তায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের সার্ভারে পিএইচপি ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করার পাশাপাশি ব্যবহৃত সংস্করণ নিরাপদ কি না, সেটিও পরীক্ষা করতে বলা হয়। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা হালনাগাদ ও সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ওয়েবসাইট ও ওয়েবভিত্তিক বিভিন্ন সেবা তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটি কাজে লাগিয়ে দুর্বল সার্ভারে অননুমোদিত নির্দেশনা চালানো, তথ্য চুরি কিংবা সেবায় বিঘ্ন ঘটানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্ভার ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
সরকারি তথ্য, আর্থিক লেনদেন ও নাগরিক সেবার সঙ্গে যুক্ত ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সাময়িকভাবে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হতে পারে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে হামলার চেষ্টা হয়েছে কি না কিংবা নিরাপত্তা ত্রুটি কতটা গুরুতর, তা নিশ্চিত করতে কারিগরি তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রয়োজন।
দ.ক.২৬