বাহুবল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: স্বল্প খরচে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর বাজারের শায়েস্তাগঞ্জ রোডে নতুন ক্যাম্পাসে যাত্রা শুরু করেছে মিরপুর পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ। আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, নিরিবিলি পরিবেশ, শিক্ষার্থীবান্ধব সুযোগ-সুবিধা এবং সাশ্রয়ী ভর্তি ফি ও মাসিক বেতনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি নতুন উদ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্লে গ্রুপ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
আদর্শ নাগরিক তৈরি আমাদের প্রত্যয়’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিকতা, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও সামাজিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। নতুন ক্যাম্পাসে শিক্ষার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় প্রায় অর্ধেক ভর্তি ফি ও মাসিক বেতনে শিক্ষার সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের মানসম্মত শিক্ষার আওতায় আনা এবং আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি কমানোই মূল লক্ষ্য।
এ ছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ রাখার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর মাধ্যমে সব শ্রেণির শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিষ্ঠানটিতে বিজ্ঞান ও মানবিক শাখায় পড়াশোনার সুযোগের পাশাপাশি ইসলামী শিক্ষা, সংস্কৃতিচর্চা এবং হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থার কথা জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিকতা, শৃঙ্খলা ও সামাজিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নতুন ক্যাম্পাসে রয়েছে আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, নিরিবিলি পরিবেশ, নিজস্ব যাতায়াতব্যবস্থা এবং ব্যবহারিক শিক্ষার জন্য ল্যাব-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের সুযোগ। শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখা ও সার্বিক শিক্ষাগত বিকাশে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এ বিষয়ে মিরপুর পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য শুধু শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের শিক্ষায় শিক্ষিত করা নয়, বরং তাদের নৈতিক মূল্যবোধ, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। নতুন ক্যাম্পাসে আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, নিরিবিলি পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই, অর্থের অভাবে কোনো শিক্ষার্থী যেন শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়। তাই অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় স্বল্প খরচে ভর্তি ও মাসিক বেতনে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগও রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে ইসলামী শিক্ষা, হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষা এবং সংস্কৃতিচর্চার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অভিভাবকদের সহযোগিতা পেলে এ প্রতিষ্ঠানকে মানসম্মত শিক্ষার একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চাই।”
এ ব্যাপারে মিরপুর পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালক ও প্রতিষ্ঠাতা প্রভাষক সাদিকুর রহমান বলেন, নতুন ক্যাম্পাসকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশের মাধ্যমে একটি শিক্ষিত, মানবিক ও আদর্শ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রতিষ্ঠানটির ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্লে গ্রুপ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। আগামী ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে এবং ২ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। আসনসংখ্যা সীমিত হওয়ায় আগ্রহী অভিভাবকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের ফলে মিরপুর বাজারসহ বাহুবল ও আশপাশের এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে সাশ্রয়ী ব্যয়ে পড়াশোনার সুযোগ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তি এবং নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার সমন্বিত উদ্যোগ স্থানীয় অভিভাবকদের আগ্রহ বাড়াতে পারে।
ভর্তি ও যোগাযোগ:
প্রতিষ্ঠান: মিরপুর পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
ঠিকানা: মিরপুর বাজার, চৌমুহনী, শায়েস্তাগঞ্জ রোড, বাহুবল, হবিগঞ্জ।
অধ্যক্ষের মোবাইল: ০১৭৭২-৭৭০৭৬১।