মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া বাজার ও তেলিয়াপাড়া চা বাগান এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা মাঝেমধ্যে মাদকদ্রব্যসহ অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করলেও এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না।
এদিকে মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় স্থানীয় সাংবাদিক ও সাপ্তাহিক ‘হবিগঞ্জের খবর’-এর প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম এবং তাঁর ভাই সাংবাদিক সোয়েব মিয়াকে মাদক কারবারিরা হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় শফিকুল ইসলামের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাঁকে গুরুতর আহত করা এবং তাঁর কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন ও নগদ ৩৮ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তেলিয়াপাড়া বাজার ও আশপাশের চা বাগান এলাকায় মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে স্থানীয় সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম ও তাঁর ভাই সোয়েব মিয়া দীর্ঘদিন ধরে পত্রপত্রিকা এবং ফেসবুকে নিয়মিত সংবাদ প্রকাশ করে আসছেন। গত ১৪ অক্টোবর মাদক বিক্রির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর ৬-৭ জন মাদক কারবারি তাঁদের ওপর ক্ষিপ্ত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে সুরমা চা বাগানের ৮ নম্বর লাইনের কাছে কয়েকজন ব্যক্তি জড়ো হয়ে শফিকুল ইসলাম ও তাঁর ভাইকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন—মো. কামাল মিয়া, পিতা মৃত বাচ্ছু মিয়া; শামীম মিয়া, পিতা কামাল মিয়া; রফিকুল ইসলাম রাব্বি, আলবি মিয়া ও আরমান মিয়া, তাঁদের পিতা কাওছার মিয়া; শাহজাহান মিয়া, পিতা বাচ্ছু মিয়া; এবং ইব্রাহিম মিয়া, পিতা ডালিম মিয়া। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের বাড়ি তেলিয়াপাড়া এবং কয়েকজনের বাড়ি উত্তর সুরমা এলাকায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা ৮ নম্বর শাহজাহানপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এর পরদিন ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে তেলিয়াপাড়া বোর্ডিংয়ের কাজীবাড়ির কাছে শফিকুল ইসলামকে একা পেয়ে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে মাধবপুর উপজেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
শফিকুল ইসলামের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাঁকে মারধর করার পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে থাকা একটি মোবাইল ফোন এবং পকেটে থাকা নগদ ৩৮ হাজার টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ছাড়া তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
এ ঘটনায় শফিকুল ইসলাম মাধবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
মাদক ব্যবসা ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব। এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিককে হুমকি, হামলা কিংবা ভয়ভীতির মুখে পড়তে হলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও জননিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।
তেলিয়াপাড়া বাজার ও চা বাগান এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান জোরদার, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সাংবাদিক ও তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে অভিযোগে নাম আসা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন থানা পুলিশের ।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।