হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ছয়শ্রী গ্রামে মণিপুরী সম্প্রদায়ের শারদীয় দুর্গোৎসব অত্যন্ত উৎসবমুখর, অনন্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা হলেও মণিপুরী সংস্কৃতির নিজস্ব উপাদান যোগ হওয়ায় এখানে এই উৎসবের আমেজ সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নেয়।
মণিপুরী সম্প্রদায়ের শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের মূল বৈশিষ্ট্য হলো- মণিপুরী সংস্কৃতির মেলবন্ধন। পূজা মণ্ডপগুলোতে সাধারণ ধর্মীয় আচারের পাশাপাশি মণিপুরী সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। বিশেষ করে মণিপুরী মৃদঙ্গ, শঙ্খধ্বনি এবং ভক্তিমূলক কীর্তন পূজার দিনগুলোতে অনন্য মাত্রা যোগ করে।
এছাড়া স্থানীয় কারিগরদের নিখুঁত ছোঁয়ায় দেবী দুর্গার প্রতিমা এবং মণ্ডপ সাজানো হয়। আলোকসজ্জার পাশাপাশি বাঁশ ও কাপড়ের সাহায্যে ঐতিহ্যবাহী মণিপুরী নকশার ছোঁয়া দেখা যায় বিভিন্ন তোরণ ও প্যান্ডেলে।
বিশেষ করে উৎসবের দিনগুলোতে শুধু মণিপুরী সম্প্রদায়ের মানুষই নয়, উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা নানা জাতি ও ধর্মের দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে ছয়শ্রী গ্রাম। এটি চুনারুঘাটের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ।
এখানে উৎসব উপলক্ষে মণিপুরী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঘরে ঘরে ঐতিহ্যবাহী মণিপুরী খাবার ও পিঠাপুলির আয়োজন করা হয়। আত্মীয়-স্বজন ও অতিথিদের এই বিশেষ খাবারগুলো দিয়ে আপ্যায়ন করা এক চিরন্তন রীতি।
উপজেলার অন্যান্য মণ্ডপগুলোর পাশাপাশি ছয়শ্রী গ্রামের এই বিশেষ আয়োজনটি হবিগঞ্জ অঞ্চলের অন্যতম প্রধান একটি আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত।
আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের ছয়শ্রী শ্রী শ্রী শারদীয় দূর্গোৎসবটি সার্বজনীন বিশগাঁও মণিপুরী যুব ঐক্য পূজা কমিটির তত্বাবধানে উদযাপিত হয়ে আসছে। পূজা কমিটির সভাপতি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, জৈন্তা শাখার ম্যানেজার শ্রী জিতেন বাবু সিংহ ও সাধারণ সম্পাদক উজ্জল কুমার সিংহ।
শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময়ে তাদের এমন আন্তরিকতার কারণ জানতে চাইলে- জ্যোতি সিংহ জানান, দূর্গোৎসবে আমরা নিজের চেয়ে অন্যকে আনন্দ দেয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করি
১৬ অক্টোবর চুনারুঘাট পৌরসভাসহ উপজেলার ৮২টি পূজা মণ্ডপে পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হয়েছে।
প্রতিবেদক: আব্দুর রউফ