হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর বাজারে ফার্মেসি ব্যবসার আড়ালে ডেন্টিস পরিচয়ে অপচিকিৎসার মাধ্যমে জনসাধারণের সাথে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে। চন্দ্রছড়ি রোডে অবস্থিত বাদশা ফার্মেসীর প্রোপাইটর কথিত ডেন্টিস শফিকুর রহমানের মিনি ডেন্টাল ক্লিনিকের অনুমোদন ও তার চিকিৎসাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শফিকুর রহমান নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দন্ত চিকিৎসার পাশাপাশি ফার্মেসির আড়ালে মিনি ক্লিনিক পরিচালনা, চিকিৎসক পরিচয়ে রোগীদের সেবা দেওয়া এবং দালাল চক্রের মাধ্যমে রোগী সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, চিকিৎসাসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত নিবন্ধন, প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন এবং সেখানে কী ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে দন্ত চিকিৎসার নামে রোগীদের কী ধরনের সেবা দেওয়া হচ্ছে এবং চিকিৎসাসেবার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবগত ব্যক্তিরা।
ফার্মেসির আড়ালে চিকিৎসাকেন্দ্র পরিচালনার অভিযোগ!
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৫/১৬ বছর ধরে মিরপুর বাজারের বাদশা ফার্মেসি কেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানে ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করে কথিত ডেন্টিস শফিকুর রহমান। এতে প্রশ্ন উঠেছে, শফিকুর রহমান কোন মেডিকেল থেকে চিকিৎসা বিষয়ে পড়ালেখা করেছেন এবং মিনি ক্লিনিকের প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও অনুমোদন রয়েছে কি না?
চিকিৎসক পরিচয় ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন?
শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে চিকিৎসক বা দন্ত চিকিৎসক পরিচয়ে রোগীদের সেবা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। প্রকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা, সংশ্লিষ্ট পেশাগত নিবন্ধন এবং চিকিৎসা প্রদানের আইনগত অনুমোদন সম্পর্কে শফিকুর রহমান কথা বলতে অনিহা প্রকাশ করায় তার চিকিৎসা কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।এমনকি কমিশন ভুক্ত দালালদের মাধ্যমে রোগীদের ওই প্রতিষ্ঠানে নিয়ে আসা হয়।
এছাড়াও শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে ফার্মেসি ব্যবসার সুবাদে সুন্দরী নারীদের নিয়ে অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হওয়ার একাধিক ঘটনা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র গুঞ্জন রয়েছে এবং পুরুষ কর্মচারীর পরিবর্তে শুরু থেকেই যুবতী নারীকে রাখায় অনেকবার লোকজনের হাতে নাজেহাল হন।
প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের তদন্ত দাবি
এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আবদুল্লাহেল মারুফ ফারুকী বলেন, এ বিষয়টি তার জানা নেই।
হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মিরপুর বাজারে এ নামের কোন ডেন্টাল ক্লিনিক রয়েছে কি না এ সম্পর্কে স্বাস্থ্য বিভাগ অবগত নয়।
এমতাবস্তায় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট পেশাগত নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্তের দাবি উঠেছে। তদন্তে প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, চিকিৎসাসেবার ধরন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যোগ্যতা এবং রোগীদের নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাই করা প্রয়োজন।