হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার এক পুলিশ উপপরিদর্শকের কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে পিকআপ চালকের সঙ্গে দুই হাজার টাকা ভাড়া নিয়ে দরকষাকষির কথা শোনা যায়। তবে ওই অর্থকে ঘুষের টাকা হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে চুনারুঘাট থানা।
পুলিশের ভাষ্য, জব্দ করা ভারতীয় গরু থানায় নিয়ে আসার জন্য পিকআপ ভাড়া বাবদ ওই টাকা দেওয়া হয়েছিল।
থানা সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুলাই ২০২৬ তারিখে চুনারুঘাট উপজেলার ২ নম্বর আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের ঘনশ্যামপুর গ্রামের শওকত আলী মীরের বসতঘর থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে আনা ১০টি ভারতীয় গরু জব্দ করেন এসআই কামরুল হাসান। পরে জব্দ করা গরুগুলো থানায় নিয়ে আসার জন্য একটি পিকআপ ভাড়া করা হয়।
পিকআপটির চালক ছিলেন চুনারুঘাট পৌরসভার উত্তর আমকান্দি এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গরুগুলো থানায় পৌঁছানোর পর চালককে ভাড়া বাবদ প্রথমে দুই হাজার টাকা দেওয়া হয়। তবে ওই টাকায় চালক রাজি না হওয়ায় পরে আরও ৭০০ টাকা দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে দুই হাজার ৭০০ টাকা ভাড়া পরিশোধ করা হলে চালক টাকা নিয়ে চলে যান ।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিও ক্লিপে পিকআপ ভাড়া নিয়ে কথোপকথনের বিষয়টি সামনে আসার পর অর্থের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে ওই অর্থকে ঘুষ হিসেবে প্রচার করা হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল জব্দ করা গরু পরিবহনের জন্য পিকআপের ভাড়া।
থানা সূত্র আরও জানায়, এ ঘটনায় এসআই কামরুল ইসলাম বাদী হয়ে এজাহার দায়ের করলে ১৩ জুলাই চুনারুঘাট থানায় ১৯ নম্বর মামলা রুজু করা হয়। মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয়েছে এসআই মোহাম্মদ তারেক নাজিরের ওপর। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অডিও ক্লিপের বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট, পিকআপ ভাড়া পরিশোধের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো অর্থকে ঘুষ হিসেবে চিহ্নিত করা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি অভিযোগের সত্যতা থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তা উদ্ঘাটন করাও জরুরি।
এ ব্যাপারে চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি এই থানায় আগষ্ট মাসে জয়েন্ট করেছি, আমি আসার আগে সাবেক ওসি থাকাকালীন ঘটনাটি জুলাই মাসে ঘটে । মূল ঘটনা জানতে পেরেছি “জব্দ করা ১০টি ভারতীয় গরু থানায় নিয়ে আসার জন্য একটি পিকআপ ভাড়া করা হয়েছিল। ওই পিকআপের ভাড়া বাবদ প্রথমে ২ হাজার টাকা দেওয়া হলেও চালক তাতে রাজি না হওয়ায় পরে আরও ৭০০ টাকা দেওয়া হয়। মোট ২ হাজার ৭০০ টাকা পরিবহন ভাড়া পরিশোধ করা হয়েছে। এই অর্থকে ঘুষ হিসেবে প্রচার করা হলে তা ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে এবং মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য প্রচারের আগে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
দ.ক.সিআর