বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে ৯ অক্টোবর হবিগঞ্জ প্রধান ডাকঘরে আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘পত্রলিখন প্রতিযোগিতা–২০২৬’। প্রতিযোগিতার প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘মায়ের কাছে মনের কথা’।
হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি বৃন্দাবন কলেজ, সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং বিকেজিসি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ আয়োজনে অংশগ্রহণ করে মায়ের প্রতি তাদের ভালোবাসা, আবেগ, কৃতজ্ঞতা ও মনের না-বলা কথাগুলো চিঠির পাতায় তুলে ধরেন।
আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগব্যবস্থার যুগে চিঠি লেখার চর্চাকে পুনরুজ্জীবিত করা, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীল লেখালেখির আগ্রহ সৃষ্টি এবং ডাক বিভাগের ঐতিহ্যবাহী সেবার সঙ্গে নতুন প্রজন্মের পরিচয় ঘটানোর লক্ষ্যেই এ ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ও আনন্দের সঙ্গে চিঠি লিখে। মায়ের প্রতি সন্তানের অকৃত্রিম ভালোবাসা, শৈশবের স্মৃতি, মায়ের ত্যাগ ও অবদানের স্বীকৃতি এবং হৃদয়ের গভীরে জমে থাকা অনুভূতিগুলো তাদের লেখায় প্রকাশ পায়। চিঠি লেখার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা অনুভব করে, মনের গভীরতম কথাগুলো প্রকাশের ক্ষেত্রে হাতে লেখা একটি চিঠি এখনো কতটা আবেগময় ও তাৎপর্যপূর্ণ।
অনুষ্ঠানটির সার্বিক পরিকল্পনা ও আয়োজন সমন্বয় করেন হবিগঞ্জ ডাক বিভাগের এপিএমজি মো. আব্দুর রহমান, জেলা পোস্টমাস্টার এস. এম. মিজান এবং হবিগঞ্জ উপবিভাগের পোস্ট অফিস পরিদর্শক মলয় কান্তি সরকার। তাঁদের সমন্বিত উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিশ্ব ডাক দিবসের এ আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
আয়োজকরা মনে করেন, চিঠি কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি মানুষের অনুভূতি, স্মৃতি ও সম্পর্কের এক অনন্য দলিল। বিশেষ করে মায়ের উদ্দেশে চিঠি লেখার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারিবারিক বন্ধন, মানবিক মূল্যবোধ এবং আবেগের সৃজনশীল প্রকাশ আরও সমৃদ্ধ হবে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কাছে ডাক বিভাগের ঐতিহ্য ও গুরুত্ব তুলে ধরতেও এ ধরনের উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
‘মায়ের কাছে ম
নের কথা’—এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ডাক দিবসে যেন নতুন করে উচ্চারিত হলো এক চিরন্তন সত্য: প্রযুক্তি যোগাযোগকে দ্রুততর করতে পারে, কিন্তু হৃদয়ের অনুভূতিকে ছুঁয়ে যাওয়ার শক্তি একটি চিঠির এখনো অমলিন।
দ.ক.২৬