এ বছর সাহিত্যে নোবেল উঠছে কার হাতে, জানা যাবে আজ বৃহস্পতিবার।
বিকেল ৫টায় সুইডিশ একাডেমির নতুন স্থায়ী সেক্রেটারি ইনগ্রিড কার্লবার্গ ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবেন।
আনুষ্ঠানিকভাবে এক বছর আগে শুরু হওয়া দীর্ঘ নির্বাচন প্রক্রিয়ার সমাপ্তিও ঘটবে এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে।
এবারের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার জয়ের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন কানাডার কবি অ্যান কারসন ও চীনের নিরীক্ষাধর্মী লেখক সান শু।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক বাজি নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ল্যাডব্রোকসের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
ল্যাডব্রোকসের হিসাবে, বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই সাহিত্য পুরস্কার জয়ের ক্ষেত্রে দুজনেরই সম্ভাব্যতার অনুপাত ১০/১। এ বছর পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা প্রায় ৯ লাখ পাউন্ড বা প্রায় ১৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকার সমান।
৭৬ বছর বয়সী অ্যান কারসন কবিতা ও গদ্যের মিশ্রণে তৈরি তার ব্যতিক্রমী লেখার জন্য পরিচিত। সমকালীন গল্পের সঙ্গে প্রাচীন পুরাণের সমন্বয়ও তার লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত পদ্য উপন্যাস ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’। এতে গ্রিক পুরাণের বীর হেরাক্লিসকে নিয়ে লেখা একটি কবিতার নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে এবং সমকামী এক তরুণের বেড়ে ওঠার গল্প তুলে ধরা হয়েছে।
সান শু কয়েক বছর ধরেই নোবেল পুরস্কারের সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। ৭৩ বছর বয়সী এই লেখকের আসল নাম দেং শিয়াওহুয়া। ‘লাভ ইন দ্য নিউ মিলেনিয়াম’ উপন্যাস এবং ‘আই লিভ ইন দ্য স্লামস’ ছোটগল্প সংকলনের জন্য তিনি দুবার ইন্টারন্যাশনাল বুকার পুরস্কারের দীর্ঘ তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
কারসন ও সান শুর পর ১৪/১ সম্ভাব্যতার অনুপাত নিয়ে রয়েছেন জাপানি লেখক হারুকি মুরাকামি। ‘নরওয়েজিয়ান উড’ ও ‘কাফকা অন দ্য শোর’সহ বিভিন্ন জনপ্রিয় বইয়ের লেখক মুরাকামি। এবারের সম্ভাব্য বিজয়ীদের মধ্যে আন্তর্জাতিকভাবে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া লেখকদের একজনও তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার অ্যাভাঁ-গার্দ লেখক জেরাল্ড মারনেন এবং মার্কিন পোস্টমডার্ন ঔপন্যাসিক থমাস পিঞ্চনও আলোচনায় রয়েছেন। দুজনেরই সম্ভাব্যতার অনুপাত ১৬/১।
২০/১ সম্ভাব্যতার অনুপাত নিয়ে রয়েছেন সাতজন লেখক। তারা হলেন—মার্গারেট অ্যাটউড, ক্রিস্তিনা রিভেরা গারসা, এনরিকে ভিলা-মাতাস, জামাইকা কিনকেইড, লিদিয়া জর্জ, লিউদমিলা উলিতস্কায়া ও মিশেল ওয়েলবেক।
কানাডীয় ঔপন্যাসিক মার্গারেট অ্যাটউড ‘দ্য হ্যান্ডমেইডস টেল’–এর লেখক। এরই মধ্যে বুকার ও জিলারসহ সাহিত্যের বড় কয়েকটি পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।
মেক্সিকোর লেখক ক্রিস্তিনা রিভেরা গারসা ২০২৪ সালে ‘লিলিয়ানাস ইনভিন্সিবল সামার’ বইয়ের জন্য পুলিৎজার জেতেন। বইটি তার ২০ বছর বয়সী বোনের স্মৃতিকথা, যিনি সাবেক প্রেমিকের হাতে খুন হয়েছিলেন।
স্পেনের ঔপন্যাসিক এনরিকে ভিলা-মাতাস কথাসাহিত্যের সঙ্গে প্রবন্ধের মিশ্রণের জন্য পরিচিত। তার মেটাফিকশনধর্মী উপন্যাস ‘ম্যাক অ্যান্ড হিজ প্রবলেম’ ২০২০ সালে বুকার পুরস্কারের দীর্ঘ তালিকায় ছিল।
কিনকেইড একজন অ্যান্টিগুয়ান-আমেরিকান লেখক। ‘অ্যানি জন’, ‘অ্যা স্মল প্লেস অ্যান্ড লুসি’সহ বেশ কিছু বইয়ের জন্য তিনি পরিচিত। এসব লেখায় প্রায়ই পারিবারিক সম্পর্ক এবং ঔপনিবেশিকতার ধ্বংসাত্মক প্রভাব উঠে এসেছে।
আরও যেসব লেখকের নাম সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে তাদের মধ্যে আছেন কার্ল ওভে নসগার্ড, অ্যালেক্সিস রাইট, কলম টোয়িবিন, সেসার আইরা, ডেবোরা লেভি, ডন ডিলিলো, ইমানুয়েল কারের, লায়লা আবুলেলা, মাইকেল ওন্ডাটজে, মিরচা কার্তারেরেস্কু এবং সালমান রুশদি।
সাহিত্যে নোবেলের মনোনয়ন হয় যেভাবে
গত বছর সাহিত্যে নোবেল পেয়েছিলেন হাঙ্গেরির লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই। সাম্প্রতিক বছরগুলোর বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন হান কাং, ইয়োন ফসে, অ্যানি এরনো ও আবদুররাজাক গুরনাহ।
সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার দায়িত্ব সুইডিশ একাডেমির। এই একাডেমির ১৮ জন সদস্যের মধ্যে রয়েছেন লেখক, অধ্যাপক ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের বুদ্ধিজীবীরা।
গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে, একাডেমির নোবেল কমিটি সাহিত্য নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন জমা দিতে যোগ্য শত শত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে ফরম পাঠায়।
নোবেল পুরস্কারের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য ও ভাষাবিজ্ঞানের অধ্যাপক, নোবেলজয়ী লেখক এবং বিভিন্ন দেশের লেখক সমিতির প্রধানরা মনোনয়ন দিতে পারেন। এ ছাড়াও, এই তালিকার কেউ যদি মনোনয়ন ফরম না-ও পান, তবুও তারা চাইলে মনোনয়ন জমা দিতে পারেন।
ফ্রান্সের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সায়েন্টিফিক রিসার্চের গবেষণা পরিচালক জিজেল সাপিরো ডয়েচে ভেলকে বলেন, ‘প্রতি বছর মনোনীত লেখকদের তালিকায় ২০০টি পর্যন্ত নাম থাকতে পারে।’
সাহিত্য কীভাবে আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, সাহিত্যের জগতে ক্ষমতার সম্পর্ক এবং অনুবাদের বাজারে নোবেল পুরস্কারের মতো বৈশ্বিক একটি প্রতিষ্ঠান কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে গবেষণা করেন তিনি।
সাপিরো বলেন, ‘কমিটি নিজেরাও তালিকায় নাম যুক্ত করতে পারে। এর মধ্যে আগের বছরগুলোতে মনোনীত লেখকরাও থাকতে পারেন।’
নোবেল কমিটি মার্চ থেকে মে পর্যন্ত কয়েক ধাপের একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাঁচজনের নাম বাছাই করে এবং তা একাডেমির কাছে উপস্থাপন করে। জুন থেকে তথা ইউরোপের গ্রীষ্মজুড়ে একাডেমির সদস্যরা মনোনীত লেখকদের বই পড়েন, তাদের নিয়ে আলোচনা করেন।
একাডেমি প্রতিবছর অক্টোবরের শুরুতে পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে।
তবে কোন মানদণ্ডে একাডেমি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়, সে বিষয়টি তারা নিজেদের মধ্যেই রাখতে পছন্দ করে।
দ.ক.২৬