বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল থেকে জিয়ার প্রতিকৃতি! পটপরিবর্তনে বদলে গেলেন আশীষ আচার্য্য।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একের পর এক ম্যুরাল নির্মাণ করে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া চিত্রশিল্পী আশীষ আচার্য্য এখনো হবিগঞ্জের শিল্পাঙ্গনে সক্রিয়। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর শিল্পকর্মে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার প্রতিকৃতি উঠে আসায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
হবিগঞ্জ চারুকলা একাডেমির অধ্যক্ষ আশিষ আচার্য্য কথিত পালাতক সাবেক এমপি আবু জাহির এর কর্মী ছিলেন। একাদিক মিটিং ও অনুষ্ঠানে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাধ্যম ও দৈনিক পত্রিকা অনুসন্ধান করে তার বক্তব্যে পাওয়া যায়, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে হবিগঞ্জ জেলার বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ম্যুরাল করার স্বপ্ন দেখেন হবিগঞ্জ চারুকলা একাডেমির কর্ণধার আশীষ আচার্য্য। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে হবিগঞ্জের বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় বঙ্গবন্ধুর প্রায় নয়টি ম্যুরাল নির্মাণ করে তাঁর প্রতিষ্ঠান। এসব হবিগঞ্জ জেলার জেলা পরিষদ হবিগঞ্জ (৪৮ফিট),শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভা (৫০ফিট),হবিগঞ্জ সদর উপজেলা (৫০ফিট),লাখাই উপজেলা (৩০ফিট),বানিয়াচং উপজেলা (৩০ফিট),বানিয়াচং শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ (৩০ফিট), আজমিরীগঞ্জ উপজেলা (৩০ফিট), হবিগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স (২৫ফিট) উল্লেখযোগ্য।
এখন প্রশ্ন উঠছে যে, শিল্পী একসময় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণকে নিজের গর্বের বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছেন, রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলানোর পর তাঁর শিল্পের রাজনৈতিক প্রতীকও কেন বদলে গেল? বর্তমান প্রশাসনের কাছে তাই দাবি উঠছে পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে সরকারি অর্থায়নে তাঁর করা প্রকল্পগুলোর কার্যাদেশ, ব্যয় ও অর্থনৈতিক হিসাব যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে বর্তমানেও সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগগুলোও খতিয়ে দেখা হোক।