হবিগঞ্জের চুনারুঘাট সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদের ৩৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বৈচিত্র্যের উৎসব’। শুক্রবার বিকেলে পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ খান খৈয়াম, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম ফয়সল এবং হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. ডি এম সফররাজ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চুনারুঘাট সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদের সভাপতি ও দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ।
পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর উৎসবের অংশ হিসেবে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি চুনারুঘাট উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে সাহিত্য-সংস্কৃতির বিভিন্ন অঙ্গনের ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
এ সময় চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং চুনারুঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উৎসব উপলক্ষে চুনারুঘাটে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলার সৃষ্টি হয়। দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “চুনারুঘাটের সাহিত্য ও সংস্কৃতির উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।”
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ খান খৈয়াম বলেন, “সাংবাদিক সালেহ আমাদের প্রিয় মানুষ। তাঁর সংস্কৃতি চর্চার উদ্যোগকে আমরা ধন্যবাদ জানাই।”
অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, “অল্প আয়োজনের মধ্যেও আমরা যে সুস্থ ও সুন্দর সাংস্কৃতিক চর্চার চিত্র দেখতে পেয়েছি, তা সারা দেশের জন্য একটি মডেল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।” এ বিষয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতি তিনি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে চুনারুঘাটের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতারও আশ্বাস দেন তিনি।
৩৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘বৈচিত্র্যের উৎসব’ ঘিরে চুনারুঘাটে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এই আয়োজন স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পেলে।
দ.ল.২৬