জৈন্তাপুর প্রতিনিধি ::
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার বড়গাং নদীর বালুমহালে বালু উত্তোলন ও রাজস্ব আদায়ের কাজে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি নৌকা প্রতি ১ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় বারকি শ্রমিকদের নদী থেকে বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন বালুমহালের ইজারাদার মো. সিদ্দিক মিয়া।
নদীর পানি কমে যাওয়ায় এমনিতেই বালু উত্তোলনে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে কথিত চাঁদার দাবিতে বালু উত্তোলন বন্ধ থাকায় ইজারাদার ও শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত ১৫ দিনে বালু উত্তোলন বন্ধ থাকায় অন্তত ৩০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইজারাদার।
এ ঘটনায় জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. সিদ্দিক মিয়া। অভিযোগে মো. ফয়জুল ইসলাম (৪৮), দিলদার হোসেন (৩৮), রুহুল আমিন (৪০)সহ অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সরকারি নিয়মনীতি অনুসরণ করে বৈধ টেন্ডারের মাধ্যমে বড়গাং নদীর বালুমহাল ইজারা নিয়েছেন মো. সিদ্দিক মিয়া। ইজারামূল্য পরিশোধ করে ১৪৩৩ বাংলা সনের রাজস্ব আদায় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ইজারাদারের অভিযোগ, সম্প্রতি অভিযুক্তরা পেশিশক্তির মাধ্যমে বালু উত্তোলন ও রাজস্ব আদায়ের কাজে বাধা দিয়ে নৌকা প্রতি ১ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করছেন। গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে কথিত চাঁদা না দেওয়ায় শ্রমিকদের বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হচ্ছে না।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে শ্রমিকরা নৌকা নিয়ে বড়গাং নদীতে বালু উত্তোলনে গেলে অভিযুক্তদের সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন তাদের বাধা দেন। একপর্যায়ে পেশিশক্তি প্রয়োগ করে শ্রমিকদের খালি নৌকা নিয়ে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ইজারাদার।
এ ঘটনায় বালু উত্তোলন ও রাজস্ব আদায় কার্যক্রম কার্যত ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। ইজারাদারের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় মুরব্বিদের মাধ্যমে কয়েক দফা বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও নৌকা প্রতি ১ হাজার টাকা না দিলে বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হচ্ছে না।
অভিযোগকারী মো. সিদ্দিক মিয়া দাবি করেছেন, বালু উত্তোলন বন্ধ থাকায় গত ১৫ দিনে তার প্রায় ৩০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, সামনে হেমন্ত মৌসুম শুরু হলে নদীর পানি আরও কমে গিয়ে বালু উত্তোলনের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়তে পারে। এতে ইজারার মেয়াদ ও মৌসুমের মধ্যে বালু উত্তোলন করতে না পারলে তার বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তিনি।
ইজারাদারের দাবি, সরকার নির্ধারিত নিয়মে বালুমহাল ইজারা নেওয়ার পরও যদি বাইরের কেউ অর্থ দাবি করে বালু উত্তোলনে বাধা দেয়, তাহলে একদিকে সরকারের রাজস্ব আদায় ব্যাহত হবে, অন্যদিকে ইজারাদারও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।
লিখিত অভিযোগের সঙ্গে বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ার ছবি ও ভিডিও সংযুক্ত করেছেন মো. সিদ্দিক মিয়া। তিনি বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এখন প্রশ্ন উঠেছে—বৈধভাবে ইজারা দেওয়া একটি বালুমহালে কারা শ্রমিকদের বালু উত্তোলনে বাধা দিচ্ছে এবং নৌকা প্রতি ১ হাজার টাকা দাবির অভিযোগের সত্যতা কতটুকু? অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের পরিচয় ও ভূমিকা কী, কিংবা বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় কোনো প্রভাবশালী মহল সক্রিয় কি না—তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।