হবিগঞ্জের বাহুবলে একই পরিবারের তিন ভাইকে ঘিরে জমি দখল, জাল-জালিয়াতি, জোরপূর্বক মাটি কাটা, হুমকি ও প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতিসাধনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে একজন আওয়ামী লীগের নেতা, আরেকজন বিএনপির নেতা এবং অপর ভাই মাদক ব্যবসায়ী।
এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ও বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন পূর্ব জয়পুর গ্রামের মো. শফিক মিয়া।
অভিযুক্তরা হলেন— ভাদেশ্বর ইউনিয়নের পূর্ব জয়পুর গ্রামের মৃত জাফর আলীর ছেলে বাহুবল উপজেলা তাতীঁলীগের আহ্বায়ক রাসেল মিয়া (৪০), উপজেলা ভাদেশ্বর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি ফারুক মিয়া (৫০) ও মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত আলকাছ মিয়া (৪৫)।
ভুক্তভোগী পূর্ব জয়পুর গ্রামের জমির আলীর ছেলে এডভোকেট মিজান মিয়া বলেন, তারা ৫ ভাইয়ের মধ্যে রাসেল মিয়া বাহুবল উপজেলা তাতীলীগের আহ্বায়ক, আরেক ভাই লাল ফারুক সুদী ব্যবসায়ী ও ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি। অপর ভাই আলকাছ মিয়া ওরফে সুমন মিয়া ও ছাদেক মিয়া ও আসুক মিয়া মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী। বর্তমানে বিএনপি নেতা ফারুক মিয়ার ছত্রছায়ায় রাসেল আওয়ামী লীগের উপজেলা পদবী ধারী নেতা হয়েও কোন রাজনৈতিক ও বৈষম্য বিরুদ্ধী মামলায় তালিকায় তার নাম নেই। রাসেল ও ফারুক মিয়া মিলে বাকি তিন ভাইকে দিয়ে মাদক ব্যবসাও হেবা ট্যাবলেট সহ সকল অপকর্ম করিয়ে চলছে। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী হামলা সহ বিভিন্ন মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। অনেক মামলায় ওয়ারেন্ট রয়েছে। তাদের রাজনৈতিক পরিচয়, পারস্পরিক প্রভাব ও পারিবারিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। এর ফলে সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ও আদালতে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে এবং কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। তবে এসব মামলায় পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান হচ্ছে না।
জানা যায়, উপজেলা ভাদেশ্বর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি ফারুক মিয়া (৫০)-এর ছত্রচ্ছায়ায় তার আপন ছোট ভাই বাহুবল উপজেলা তাঁতী লীগের আহ্বায়ক রাসেল মিয়া (৪০) প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করে যাচ্ছেন এবং অপর ছোট ভাই আলকাছ মিয়া (৪৫) প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা পরিচালনার করছেন। তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে বাহুবল থানার মামলা নং-১০, তারিখ ৩০/০৯/২০২১; ধারা ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৫০৬/১১৪, পেনাল কোড, ১৮৬০; জিআর-১১৬/২০২১।
এছাড়া বাহুবল থানার মামলা নং- ১৭, তারিখ ১১/০৮/২০০৬; ধারা ৩৪১/৩২৩/৩২৫/৩০৭/১১৪/৩৪; মামলা নং-০২, তারিখ ০৪/০২/২০১৬; ধারা ৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৩৮০/৪২৭/৫০৬(২)/৩৪; মামলা নং-০৩, তারিখ ১১/০৯/২০১৯; ধারা ৩২৩/৩২৫/৩০৭/৪৫২/১১৪/৩৪; মামলা নং-১৪, তারিখ ১০/০৫/২০১৫; ধারা ৩৪১/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/১০৯/১১৪ এবং মামলা নং-১০, তারিখ ১৪/০৩/২০২০; ধারা ৩৪১/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৫০৬/৩৭৯/১১৪, পেনাল কোড, ১৮৬০ উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়াও জালিয়াতির জিআর মামলা নং-১৫৪/২১ বাহুবল রয়েছে। এসব মামলার কয়েকটিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পলাতক রয়েছেন। ফলে মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর হয়েছে কি না এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশের আইনগত পদক্ষেপ কী—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বাহুবল থানাধীন কন্দর্পপুর মৌজায় শফিক মিয়ার বংশীয় ও দখলীয় জমিতে অভিযুক্তরা একটি এক্সকাভেটর নিয়ে প্রবেশ করে জমি থেকে মাটি কাটতে শুরু করে। খবর পেয়ে শফিক মিয়া ও স্থানীয় কয়েকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের বাধা দেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত এক্সকাভেটর নিয়ে ঘটনাস্থলে অবস্থান করেন এবং বাধা দেওয়ায় শফিক মিয়া ও সাক্ষীদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এমনকি রামদাসহ দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন । পরে তারা এক্সকাভেটর নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। শফিক মিয়ার দাবি, মাটি কাটার ফলে তার প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তরা যেকোনোভাবে জমি দখলে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ।
অভিযোগপত্রে জমিটির অবস্থান বাহুবল উপজেলার কন্দর্পপুর মৌজা, জেএল নং-১৩০, এসএ খতিয়ান নং-২৯৪, এসএ দাগ নং-৬৩৭ এবং আরএস দাগ নং-৩৮৬ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বৈধ ওয়ারিশ সূত্রে জমির একটি অংশ নিজেদের নামে নামজারি করা হয়েছে বলেও শফিক মিয়া দাবি করেছেন। নামজারি খতিয়ান নং-১০০০ এবং আরএস দাগ নং-৩৮৬-এ ২ একরের মধ্যে ১ একর ৫০ শতক জমির উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়া জমির মালিকানা নিয়ে পূর্ব থেকেই বিরোধ রয়েছে এবং এ সংক্রান্ত আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। শফিক মিয়ার দাবি, প্রতিপক্ষ জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কিছু দলিল সৃষ্টি করে জমির ওপর নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি অবহিত করে সালিশের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা তাতে সাড়া দেননি। ফলে নিরাপত্তা ও জমি রক্ষার স্বার্থে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাহুবল মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মো. শফিক মিয়া।
দ.ক.সিআর.২৬