সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী রাধাষ্টমী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শনিবার চুনারুঘাট উপজেলার মন্দিরে মন্দিরে ও বাড়িতে বাড়িতে পালিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে ভক্তরা উপবাস ও পূজা-অর্চনার মাধ্যমে রাধারানীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। মন্দির ও বাড়িতে বিশেষ পূজা-অর্চনা, কীর্তন, নামসংকীর্তন, ভজন ও প্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সের ভক্তরা রাধারানীর চরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে শ্রীশ্রী রাধার আবির্ভাব ঘটে বলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস। মথুরার বারসানাকে রাধার জন্মস্থান হিসেবে মানা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে রাজা বৃষভানু ও তাঁর স্ত্রী কীর্তির ঘরে রাধার আবির্ভাব ঘটে। বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বীদের কাছে রাধাষ্টমী একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় তিথি।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, পবিত্র রাধাষ্টমী পালন করলে মানুষের মনোবাসনা পূর্ণ হয়। দিনটিকে রাধারানীর জন্মদিন হিসেবে পালন করা হয়। এদিন রাধারানী ও শ্রীকৃষ্ণের পূজা করলে কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ হয় বলেও ভক্তদের বিশ্বাস। ঘরের সুখ ও সমৃদ্ধির জন্য এদিন মন্ত্র পাঠ করার প্রচলন রয়েছে। ভক্তদের বিশ্বাস, এতে ঘরে সুখ ও সৌভাগ্য আসে। রাধাষ্টমীতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও রাধারানীকে মিষ্টান্ন নিবেদনেরও প্রচলন রয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, রাধারানীর ১০৮টি নাম রয়েছে।
ধর্মীয় ব্যাখ্যায় বলা হয়, ‘রা’ শব্দটি ‘রমন’ থেকে এসেছে, যার অর্থ আনন্দবর্ধনকারী। আর ‘ধা’ শব্দটি ‘ধারণ’ থেকে এসেছে। যিনি আনন্দ ধারণ করে থাকেন, তিনিই রাধা—এমন ব্যাখ্যা প্রচলিত রয়েছে।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে রাধার গভীর সংযোগ তাঁকে নিঃস্বার্থ উৎসর্গের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেছে। ধর্মীয় গ্রন্থে বর্ণিত কাহিনি ও বৈষ্ণবীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কৃষ্ণের সান্নিধ্য লাভের জন্য রাধার আকাঙ্ক্ষা ও অটল প্রেম ভক্তির গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত। ভক্তদের বিশ্বাস, রাধাষ্টমীর এই শুভ তিথি ইতিবাচক শক্তির প্রতীক এবং এদিনের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নেতিবাচকতা দূর করে সুখ ও সমৃদ্ধির সূচনা করে।
রাধাষ্টমীর উপবাস পালনেরও প্রচলন রয়েছে। এ সময় অনেক নারী উপবাস পালন করেন এবং রাধারানীর পাশাপাশি শ্রীকৃষ্ণের পূজা করেন। ভক্তদের বিশ্বাস, রাধাষ্টমীর উপবাস পালনের মাধ্যমে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আশীর্বাদ লাভ করা যায় এবং পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
রাধাষ্টমী শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, ভক্তদের কাছে এটি ভালোবাসা, শান্তি, সহমর্মিতা ও ভক্তির শিক্ষারও প্রতীক। রাধা-কৃষ্ণের আদর্শ অনুসরণ করে চলার মাধ্যমে সমাজে সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা করেন ভক্তরা। একই সঙ্গে তাঁরা দেশ, জাতি ও মানুষের শান্তি, কল্যাণ এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি কামনা করেন।
দ.ক.২৬