চুনারুঘাটঃ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং ভক্তিময় পরিবেশের মধ্য দিয়ে চুনারুঘাট উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আমু চা বাগানে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল শ্রী শ্রী সর্বজনীন গণেশ পূজা ও প্রীতিভোজ (মহাপ্রসাদ বিতরণ) অনুষ্ঠান।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিঘ্নহর্তা ও সিদ্ধিদাতা প্রভু শ্রী গণেশের চরণে কৃপা প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এই উৎসব মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো বাগান এলাকা।
অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা ঘটে সকালে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, গণেশ বন্দনা ও পুজার্চনার মাধ্যমে। যোগ্য পুরোহিত দ্বারা ধর্মীয় নিয়ম-নীতি মেনে সিদ্ধিদাতা গণেশের প্রতিমা স্থাপন এবং বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ধূপধুনো, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, উলুধ্বনি ও ঢাক-ঢোলের শব্দে পুরো মণ্ডপ এলাকায় এক স্বর্গীয় আবহ তৈরি হয়। চা বাগানের সকল স্তরের সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ ও শিশুরা নতুন পোশাক পরিধান করে পূজা মণ্ডপে সমবেত হন এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও সকলের মঙ্গল কামনায় শ্রী গণেশের চরণে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন।
পূজা পর্ব শেষে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় আলোচনা সভা। সনাতন ধর্ম সংস্কৃতিতে প্রভু গণেশের গুরুত্ব এবং ভক্তদের জীবনে তাঁর আশীর্বাদের তাৎপর্য তুলে ধরেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। অনুষ্ঠানে চা বাগানের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে পুজো কমিটির এমন সুন্দর আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
দুপুরের পর শুরু হয় অনুষ্ঠানের অন্যতম মূল আকর্ষণ 'মহাপ্রসাদ বিতরণ'। হাজার হাজার ভক্তের মাঝে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এই মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। চা বাগানের প্রতিটি পরিবারের সদস্য ছাড়াও আশপাশের এলাকা থেকে আসা নানা বয়সের সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে বসে একসাথে প্রীতিভোজে অংশ নেন। ভক্তদের সুস্বাদু প্রসাদ পরিবেশনে নিয়োজিত ছিলেন বাগান ও পূজামণ্ডপের একঝাঁক স্বেচ্ছাসেবী যুবক।
উৎসবের সার্বিক শৃঙ্খলা ও আনন্দঘন পরিবেশ বজায় রাখতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন পলাশ ও আয়োজক কমিটি এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো।
উৎসবের সফল সমাপ্তি নিয়ে আয়োজন কমিটির এক কর্মকর্তা জানান, "প্রতিবছরের মতো এবারও আমু চা বাগানের সর্বস্তরের মানুষের সার্বিক সহযোগিতায় আমরা সাফল্যজনকভাবে সিদ্ধিদাতা গণেশের পূজা ও মহাপ্রসাদ বিতরণ সম্পন্ন করতে পেরেছি। সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণে আমাদের এই আয়োজন সার্থক হয়েছে।"
গণেশ পূজাকে কেন্দ্র করে আমু চা বাগান এলাকায় সৃষ্টি হয়েছিল এক অসাধারণ সম্প্রীতি ও মিলনের আবহ।
দিনশেষে শ্রী গণেশের জয়ধ্বনি ও আরতির মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে এই আনন্দমুখর আয়োজনের।
দ.ক.২৬