হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সাইফুল ইসলাম বলেছেন, “আমাকে নির্বাচিত করুন, আমি উন্নয়নমূলক কাজ করতে চাই। আহম্মদাবাদ ইউনিয়নকে আধুনিক ও নিরাপদ ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলাই আমার প্রত্যাশা।”
তিনি বলেন, শুধু রাস্তাঘাট, কালভার্ট কিংবা অবকাঠামোগত উন্নয়ন করলেই একটি ইউনিয়নের প্রকৃত উন্নয়ন হয় না। মানুষের জীবনমানের উন্নয়নের জন্য চিকিৎসা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, সামাজিক নিরাপত্তা ও সহজ নাগরিক সেবা নিশ্চিত করাও জরুরি।
সাইফুল ইসলাম জানান- তিনি হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য, চুনারুঘাট উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সেক্রেটারির দায়িত্বে ছিলেন। বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিএনপি'র রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকায় প্রশাসনিক জুলুমের শিকারও হয়েছেন।
এছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নেত্রী ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার তার বড় বোন।
আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন নিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী সাইফুল ইসলাম তাঁর পরিকল্পনা জানান- প্রশাসনিক স্বচ্ছতা- ইউনিয়নের সমস্ত সেবা (জন্ম নিবন্ধণ, চারিত্রিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ ইত্যাদি) কোনো প্রকার ঘুষ বা অতিরিক্ত ফি ছাড়াও দ্রুত সময়ে নিশ্চিত করা হবে। প্রতি বছর বাজেটের বিবরণী উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে জনগণের সামনে প্রকাশ করা এবং সকল উন্নয়নমূলক কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে।
অবকাঠামোগত উন্নয়ন-
এলাকার কাঁচা রাস্তাগুলো পর্যায়ক্রমে পাকা করা এবং ভেঙে যাওয়া সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার করবেন। বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করবেন।
শিক্ষা ও তরুণ সমাজ-
এলাকার স্কুল ও মাদ্রাসার অবকাঠামোগত উন্নয়নে সহযোগিতা করা এবং ঝরে পড়া দরিদ্র শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি বা সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।
তরুণদের মাদকমুক্ত রাখতে নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন, মাঠ সংস্কার এবং পাঠাগার গড়ে তোলা।
বেকার যুবকদের কারিগরি ও আইটি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থান তৈরিতে সহায়তা করা হবে।
জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষা- ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র বা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগণের মাঝে স্বাস্থ্যসেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ পৌঁছানো নিশ্চিত করা হবে।
এলাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখতে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রতি বছর ব্যাপক বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণ- বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ও ভিজিডি/ভিজিএফ কার্ড কোনো প্রকার স্বজনপ্রীতি ছাড়া সঠিক ও দুস্থ ব্যক্তিদের মাঝে বণ্টন করা হবে। নারী নির্যাতন, বাল্যবিয়ে এবং ইভটিজিং প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন ও সচেতনতা তৈরি করা হবে।
এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গ্রাম আদালতকে সক্রিয় রাখা এবং ছোটখাটো বিরোধ স্থানীয়ভাবে ন্যায্য বিচারের মাধ্যমে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা।
কৃষি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন-
কৃষকদের জন্য সময়মতো উন্নত বীজ, সার ও সেচ সুবিধা সহজলভ্য করা।
স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের কাজ সহজ করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহযোগিতা দেওয়া।
দ.ক.সিআর.২৬