চুনারুঘাট উপজেলার ২নং আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন পরিষদে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চেয়ারম্যান উপস্থিত না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে নাগরিক সেবা। প্রয়োজনীয় সনদ ও বিভিন্ন প্রশাসনিক সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ। চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়মিত পালন না হওয়ায় পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা মামলায় আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন পলাশ আসামি হওয়ার পর থেকে গ্রেফতার এড়াতে ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব পালনে অনিয়মিত হয়ে পড়েন। ফলে নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবা নিতে আসা মানুষকে অনেক ক্ষেত্রে ফিরে যেতে হচ্ছে।
সরেজমিনে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে কয়েকজন সেবাপ্রত্যাশীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে পরিষদে এসেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে তাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে অথবা পুনরায় বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, জরুরি প্রয়োজনে ওয়ারিশ সনদ নিতে পরিষদে এসেছিলাম। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান না থাকায় কাজটি সম্পন্ন করতে পারিনি। বারবার পরিষদে এসে সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হচ্ছে।
আরেক সেবাপ্রত্যাশী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সাধারণ মানুষের ছোট ছোট অনেক কাজ করতে হয়। চেয়ারম্যান না থাকায় এসব কাজে ভোগান্তি বেড়েছে। দ্রুত একজন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হলে আমরা স্বাভাবিক সেবা পেতাম।
এদিকে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান আফজল হোসেনকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা ও টানাপোড়েন চলছে বলে জানা গেছে।
চেয়ারম্যান দায়িত্বে অনুপস্থিত থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে সৃষ্ট সমস্যার বিষয়ে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জনদুর্ভোগের বিষয়টি আপনারা যেমন অনুভব করছেন, আমরাও একইভাবে অনুভব করছি। বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হোক। এতে নাগরিক সেবা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন ইউনিয়নবাসী।
দ.ক.২৬