হবিগঞ্জ শহরে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে ১১টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠান চিকিৎসাসেবা দিয়ে এলেও পরিবেশগত ছাড়পত্র না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি নিয়ে।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স এলাকায় চাঁদের হাসি জেনারেল হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস রোডে সূর্যমুখী জেনারেল হাসপাতাল, মাউন্ট এভারেস্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মাদার কেয়ার জেনারেল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সবুজবাগ এলাকার প্যানাসিয়া মেডিএইড অ্যান্ড ক্লিনিক, আক্তার মেডিকেল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারসহ ১১টি প্রতিষ্ঠানের পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই।
এসব হাসপাতালে হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। পরিবেশের ছাড়পত্র না থাকার বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে রোগী ও স্বজনদের ভিড় থাকলেও পরিবেশগত নিয়মকানুন মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকি করা হয় না। বিশেষ করে হাসপাতাল ও ক্লিনিকের চিকিৎসাবর্জ্য কীভাবে সংরক্ষণ ও অপসারণ করা হচ্ছে, তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।
এদিকে হবিগঞ্জের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার মান নিয়েও বিভিন্ন সময় অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে প্রসূতি ও নবজাতকের চিকিৎসা নিয়ে রোগীর স্বজনদের পক্ষ থেকে অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ করা হয়েছে। অতীতে শহরের কয়েকটি হাসপাতালকে ঘিরে রোগী মৃত্যুর অভিযোগও আলোচনায় আসে।
তবে এসব ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তা সত্য প্রমাণিত হয় না। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন রত্নদীপ বিশ্বাস বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই এমন বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তালিকা চাওয়া হয়েছে। তালিকা হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হবিগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ইউসুফ আলী বলেন, ছাড়পত্রবিহীন প্রতিষ্ঠানের তালিকা দ্রুত স্বাস্থ্য বিভাগে পাঠানো হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু পরিবেশগত ছাড়পত্র নয়, জেলার সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন, চিকিৎসক-নার্সের সংখ্যা, চিকিৎসাবর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা ও চিকিৎসাসেবার মান নিয়মিত তদারকি করা প্রয়োজন। এতে অনিয়ম বন্ধের পাশাপাশি রোগীদের নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।