মানুষের সন্ধানে মোঃ রোকনুজ্জামান শরীফ
মানুষ আছে, মানুষ আছে—দেখতে পাও না তুমি?
মানুষগুলো নীরব থাকে, থাকে আপন ভূমি।
সমাজ বলে—মানুষ কোথায়? অমানুষই চারপাশ,
অন্তর যাদের অন্ধ হয়ে, বিবেকের হলো সর্বনাশ।
অমানুষের দাপট দেখে ভালো মানুষ সরে,
মান-সম্মান বাঁচিয়ে তারা থাকে আপন ঘরে।
ন্যায়নীতি আর সমাজনীতি—কোথায় গেল আজ?
কুজনেরা সুজন তাড়ায়, নেই তো কোনো আওয়াজ!
সুজন যদি মাথা তোলে, বাধা আসে পথে,
সত্য বলার সাহস যেন হারিয়ে গেছে সাথে।
মানবতার মায়া-মমতা হারিয়ে গেছে কবে,
নির্বিকার চোখে মানুষ দেখে—যা কিছু ঘটে ভবে।
দয়া-মায়ার শেষ চিহ্নটুকু খুঁজে পাওয়া ভার,
অন্যায় দেখে নীরব থাকা—এও কি কম অপরাধ আর?
ঘটনা ঘটে, ক্ষত বাড়ে, কাঁদে কত প্রাণ,
দায় নিতে চায় না কেউই—সবাই দেয় অজুহাতের গান!
মোদের যুগে দুঃখ এলে হাজির প্রতিবেশী,
পরের দুঃখ নিজের ভেবে মুছত চোখের অশ্রুরাশি।
পাড়া-প্রতিবেশী ছিল তখন আপনজনের মতো,
বিপদ এলে ছুটে আসত—ভুলে নিজের ক্ষত।
আজকে দেখি ইট-পাথরের শহর ভরা ঘর,
তবু কেন মানুষের মাঝে বাড়ছে ব্যবধান ঘোর?
মানবিকতা হারিয়ে গেছে, বদলে গেছে মন,
স্বার্থের ভিড়ে হারিয়ে গেছে ভালোবাসার ক্ষণ।
মানুষরূপী রাক্ষসেরা জোর করে খায় সব,
নতুন নামে আবির্ভূত—তাদের বলে ‘মব’।
পেট যে তাদের অতল গহ্বর, অল্পতে নাহি ভরে,
জমি, খাল আর নদী গিলে দালানটাও ধরে!
লোভের কাছে লজ্জা হারে, বিবেক যায় মরে,
ক্ষমতারই ছায়া খুঁজে অন্যায় মাথা তোলে ঘোরে।
ভালো মানুষ খোঁজে না কেউ অমানুষের দলে,
কুজন বলে—‘সুজন’ নাকি বাধা দেয় চলতে বলে!
তবু আমি বলব আজও—মানুষ মরে নাই,
অন্ধকারের গভীর রাতে প্রদীপ জ্বালায় ভাই।
যারা নীরব, তারাই একদিন সত্যের কথা কবে,
মানবতার পতাকা আবার উড়বে নীল আকাশের রবে।
মানুষ আছে—মাটির বুকে, মানুষেরই মাঝে,
ভালোবাসা এখনো বেঁচে আছে হৃদয়েরই সাজে।
শুধু তাকে জাগিয়ে তুলতে দরকার সাহস, আলো—
একজন যদি মানুষ হয়, বদলে দিতে পারে কালো।
তাই তো বলি—হাল ছেড়ো না, মানুষ খুঁজে নাও,
নিজের ভেতর মানুষটাকে আগে জাগিয়ে দাও।
মানুষ আছে, মানুষ আছে—হারায়নি সে কভু,
মানবতার জয় হবেই—বিশ্বাস রাখো তবু।
শরীফ'স হাউস, মঠবাড়িয়া