হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানায় কর্মরত সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) সজল চন্দ্র পালের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অসদাচরণ এবং অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর তিনি চুনারুঘাট থানায় যোগদান করেন। পরবর্তীতে গাজীপুর ইউনিয়নের সাদ্দাম বাজারের ব্যবসায়ী রাজু হত্যা, জারুলিয়া বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল হাই হত্যা এবং রেমা চা বাগানের প্রতিবন্ধী জালাল হত্যাসহ একাধিক চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত ও আসামি গ্রেফতারের দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে বা রহস্যজনক কারণে তিনি এসব মামলার আসামিদের গ্রেফতার করছেন না এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় ধীরগতি সৃষ্টি করছেন। এছাড়া উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায়ও তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি, তার বিট এলাকায় আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের আমুরোড বাজারে একই দোকানে ২বার চুরির ঘটনা ধামাচাপা দেয়া সহ তার আচরণ ও অতীত ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন স্থানীয় নাগরিকরা। বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের প্রতি তার আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হচ্ছে।
ইমদাদুল হক ইমন নামের এক নাগরিক ফেসবুকে লেখেন, "সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ৫ আগস্টের আগে কোথায় দায়িত্ব পালন করেছেন, আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়ন বা গুলিবর্ষণে তার সম্পৃক্ততা ছিল কি না—তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। পুলিশ কোনো দলের হয়ে নয়, মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে কাজ করবে।"
নাজমুল হক লেখেন, "তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা দরকার। অনিয়ম বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।"
জেকে ওমর ও হিমেল নামের দুই নাগরিক ফ্যাসিস্টদের দোসর ও মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে তাকে দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানান। প্রত্যাহার না করা হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
আরিফিন জসিম ও শামিম চৌধুরী তার চালচলন ও আচরণকে সন্দেহজনক এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাব-ইন্সপেক্টর সজল চন্দ্র পাল মন্তব্য করতে অস্বীকার করে বলেন, "আমার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলুন।"
আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পুলিশের ভাবমূর্তি রক্ষায় বিষয়টি তদন্তপূর্বক দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন চুনারুঘাট উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ।