বানিয়াচং উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগের ফলাফল প্রকাশকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। তালিকায় নাম না থাকায় ক্ষুব্ধ পদবঞ্চিতরা উপজেলা পরিষদ এলাকায় মিছিল করেন। একপর্যায়ে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন এবং অফিস লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। বৃহস্পতিবার (১৩আগস্ট) উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে বানিয়াচং উপজেলার ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত তালিকায় নিজেদের নাম না থাকায় একদল পদবঞ্চিত ব্যক্তি ক্ষুব্ধ হয়ে উপজেলা পরিষদ এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করেন।
ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় বঞ্চিতদের। বিভিন্ন ফেসবুক পোস্ট ও মন্তব্যে তারা নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং প্রকাশিত ফলাফল বাতিল করে নতুন করে যাচাই-বাছাইয়ের দাবি জানান। কেউ কেউ তাদের বঞ্চিত হওয়ার কারণ জানতে চেয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
পরে ক্ষুব্ধ পদবঞ্চিতদের একটি অংশ উপজেলা পরিষদ এলাকায় জড়ো হয়ে মিছিল বের করেন। একপর্যায়ে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এরপর বিক্ষুব্ধ কয়েকজন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কক্ষে গিয়ে হামলা করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সমাজসেবা অফিসের কর্মকর্তারা কক্ষে তালা দিয়ে সরে যান বলে জানা গেছে। তবে সমাজসেবা কর্মকর্তা তখন অফিসে ছিলেন না।
পরে বিক্ষুব্ধরা ইউএনওর বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে মিছিল করেন। মিছিলটি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে একপর্যায়ে ইউএনওর কার্যালয়ে গিয়ে প্রবেশ করে। ওই সময় ইউএনও মাহমুদা বেগম সাথী তার কক্ষে ছিলেন। বিক্ষুব্ধরা কক্ষে ঢুকে পড়লে পরিস্থিতি দেখে তিনি চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। উপস্থিত কয়েকজন তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি সামাল দেন।
বিক্ষোভকারীরা ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগের প্রকাশিত ফলাফল বাতিল করে নতুন করে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তালিকা করার দাবি জানান। এ সময় তারা ফ্যামিলি কার্ডের ফলাফল বাতিল করতে হবে, বঞ্চিতদের নিয়োগ দিতে হবে” আওয়ামী লীগের দালাল ইউএনও সাথী,ইউএনও’র দুই গালে জুতা মারো তালে তালে,সাইফুলের দুই গালে জুতা মারো তালে তালে এসব বলে বিভিন্ন শ্লোগান দেন।
পদবঞ্চিতদের কয়েকজন বলেন, আমরা যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তালিকায় সুযোগ পাইনি। কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় লোক নির্বাচন করা হয়েছে, তা আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়। লোক দেখানো পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। ফলাফল প্রকাশের পর আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি তুলে ধরেছি। আমাদের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে যাচাই করে নতুন তালিকা করা হোক।
আরেক বিক্ষোভকারী বলেন, ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের ক্ষোভ ও অভিযোগের কথা জানিয়েছি। কিন্তু কোনো সমাধান না হওয়ায় আমরা উপজেলা পরিষদে এসে প্রতিবাদ করেছি। আমরা চাই, নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া যাচাই করে অনিয়ম থাকলে তা বাতিল করা হোক।
তবে সরকারি কার্যালয়ে ঢুকে ইউএনওকে লাঞ্চিত, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং কর্মকর্তাদের কক্ষে ঢুকে পড়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে এখন এলাকায় নানা আলোচনা চলছে।
এদিকে, বিক্ষোভ ও উত্তেজনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বানিয়াচং সার্কেল) এর নেতৃত্বে বানিয়াচং থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগের ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে বলে এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌখিকভাবে ফলাফল স্থগিতের বিষয়টি জানিয়েছেন।
তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ফলাফল বাতিল বা স্থগিতের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত কিংবা অফিসিয়াল আদেশ পাওয়া যায়নি। ফলে ফলাফল আসলে স্থগিত হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা বলছেন, শুধু মৌখিক আশ্বাস নয়, লিখিত আদেশের মাধ্যমে ফলাফল স্থগিত করে স্বচ্ছ তদন্তের পর নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। অন্যদিকে, প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা লিখিত আদেশ না আসা পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা বেগম সাথীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মুঠোফোনে ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কারো বিস্তারিত বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
দ.ক.সিআর.২৬