আসাদ ঠাকুর: সড়কের একেবারে পাশেই বিদ্যালয়। নেই কোনো সীমানা প্রাচীর। ফলে বিদ্যালয়ের মাঠ ও শ্রেণিকক্ষের পাশ দিয়ে প্রতিদিন অবাধে চলাচল করছেন স্থানীয় লোকজন। টিফিনের সময় ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ চলে যাচ্ছে সড়কের দিকে। পাশে বাড়িঘর থাকায় বাইরে থেকেও আলাদা করে চেনার উপায় নেই বিদ্যালয়টি। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই দীর্ঘদিন ধরে চলছে চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের ছয়শ্রী গ্রামের হাজী আবুল হাশিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম।
শুধু সীমানা প্রাচীরের সংকটই নয়, বিদ্যালয়টিতে নেই কোনো দপ্তরী বা অফিস সহায়ক। এতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ভবনের নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ ও দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রমেও তৈরি হয়েছে নানা সমস্যা। শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে বিদ্যালয়টিতে সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৮ সালে প্রায় ৪৫ শতাংশ জমির ওপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে একজন প্রধান শিক্ষক ও দুইজন সহকারী শিক্ষিকা কর্মরত রয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট সীমানা না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিয়মিত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ব্যবহার করছেন। টিফিনের সময় শিক্ষার্থীদের নিরাপদে রাখতে শিক্ষকদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হয়। শ্রেণিকক্ষের বাইরে কিংবা বিদ্যালয় ছুটির সময় শিশুদের ব্যস্ত সড়কের দিকে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয় বন্ধের দিনগুলোতে ভবন ও বিদ্যালয়ের সম্পদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা থেকে যায়।
স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক বলেন, সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা প্রতিনিয়ত উদ্বিগ্ন। একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সীমানা প্রাচীর না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত সীমানা প্রাচীর নির্মাণের পাশাপাশি একজন দপ্তরী নিয়োগের দাবি জানান তারা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ডেইজি রাণী দাস বলেন, “বিদ্যালয়টি রাস্তার পাশে হওয়ায় টিফিনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখতে হয়। কয়েকদিন বিদ্যালয় বন্ধ থাকলে ফিরে এসে অনেক সময় ময়দা আবর্জনা দেখা যায়। প্রাঙ্গণে গাছ লাগালেও সেগুলো সংরক্ষণ করা যায় না।”
তিনি আরও বলেন, “একজন দপ্তরী নিয়োগ দেওয়া হলে বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা অনেক সহজ হবে।”
এ বিষয়ে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী বলেন, “বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। প্রথমে সার্ভেয়ার দিয়ে বিদ্যালয়ের জমি পরিমাপ করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও দপ্তরী নিয়োগের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর জন্য একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
দ.ক/এস.এ.টি