বানিয়াচং উপজেলার এক যুবকের ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্ন শেষ হলো নির্মম মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। গ্রিসে দালাল চক্রের নির্যাতনে নিহত জাহাঙ্গীর আলমের মরদেহ অবশেষে দেশে পৌঁছেছে, যা ঘিরে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের মাতম।
শনিবার (৮আগস্ট) দিবাগত রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রিয়জনের নিথর দেহ ফিরে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
নিহত জাহাঙ্গীর আলম (২৮) বানিয়াচং উপজেলার দক্ষিণ সাঙ্গর গ্রামের আব্দুল কাইয়ুমের ছেলে। রবিবার (৯ আগস্ট) সকালে মরদেহটি গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। বাড়ির আঙিনা ভরে যায় আহাজারিতে। একটি স্বপ্নবাজ তরুণের এমন করুণ পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না কেউই।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উন্নত জীবনের আশায় অবৈধ পথে ইউরোপে পাড়ি জমান জাহাঙ্গীর। লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে দালালদের হাতে পড়ে তিনি নির্যাতনের শিকার হন। প্রায় দেড় মাস আগে নির্যাতনের এক পর্যায়ে তার মৃত্যু ঘটে বলে জানা গেছে। তবে এ ঘটনায় জড়িত দালালদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ পায়নি।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, দালাল চক্রের প্রলোভনে পড়ে প্রতিবছর বহু তরুণ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন, যার অনেকেই এমন মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হচ্ছেন। তারা মানবপাচারকারী দালালদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে জাহাঙ্গীরের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন আর কত তরুণের প্রাণ গেলে বন্ধ হবে এই অবৈধ মানবপাচারের ভয়ংকর চক্র?
দ.ক.সিআর