সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ১৩ জন গুরুতর আহত হয়ে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সংঘর্ষের তীব্রতায় ইউনিক পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের ধানক্ষেতে পড়ে যায়। ইউনিক পরিবহন বাস যার রেজি: নং- ঢাকা মেট্রো- ব- ১৫-২৫৬৩
ও একটি ঢাকা হইতে সিলেট গামী বেঙ্গল স্লিপার কোচ বাস যার রেজি: নং ঢাকা মেট্রো- ব- ১২-৫৯৮৭ মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানিয়েছে, নিহত সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৭টা থেকে ৭টা ১০ মিনিটের মধ্যে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাশিকাপন এলাকায় সিলেট থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরীনা লক্ষ্মীপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম (৫০)সহ সাতজন নিহত হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় জাইফা ইসলাম (৩), পিতা- জাহাঙ্গীর শেখ, সাং- বিক্রমপুর, ঢাকা এবং সপ্তম রায় (প্রীতম) (২২), পিতা- উত্তম রায়, সাং- সোবানীঘাট, সিলেটকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়ায়।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন নুরুন নাহার (২৪), মো. মফিজ মিয়া (২৯), ফারুক মিয়া (২৯), মুক্তার (২৯), জাহাঙ্গীর (৩০), আফরুজা (২৯), আফজাল, বাবুল ও ওহার। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ও ওসমানীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দুটি বাসও জব্দ করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে সাময়িক যানজটের সৃষ্টি হলেও পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
দ.ক.সিলেট