বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, রাষ্ট্র ও ক্ষমতাবানদের প্রশ্ন করা এবং তাদের জবাবদিহির মধ্যে রাখা সাংবাদিকতার মূল কাজ। এটি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, জনগণের অধিকার রক্ষা করে এবং সমাজে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে।
রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ আয়োজিত সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সত্য বলার সাহসিকতাই সাংবাদিকতার মূলমন্ত্র। গণমাধ্যমের জন্য প্রয়োজন সৎ, সত্যনিষ্ঠ ও পক্ষপাতমুক্ত সাংবাদিকতা। তবে বাস্তবতায় বাংলাদেশে এসবের বড় অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।
তিনি আরওবলেন- দলবাজি, অপসাংবাদিকতা, হলুদ সাংবাদিকতা ও তথ্যসন্ত্রাস সাংবাদিকদের মর্যাদা ম্লান করে দিচ্ছে। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রশ্নে কোনো আপস করা চলবে না। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার জায়গা দখল করে নিয়েছে স্বার্থনির্ভর সাংবাদিকতা।
বিএফইউজের মহাসচিব বলেন, বস্তুনিষ্ঠ, সৎ ও নির্ভীক সাংবাদিকতা দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গল বয়ে আনে। একটি আদর্শ গণমাধ্যম কোনো দল, গোষ্ঠী, সরকার, বিদেশি রাষ্ট্র বা কোনো এজেন্সির কাছে দায়বদ্ধ থাকে না। গণমাধ্যমের দায়বদ্ধতা থাকে শুধু দেশের জনগণের কাছে। গণমাধ্যমের পরাজয় মানে জনগণের পরাজয়, আর জনগণের পরাজয় মানে রাষ্ট্রের পরাজয়।
বাংলাদেশের গণমাধ্যমের নানা সংকটের জন্য বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দায়ী উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণমাধ্যমের সব সময় জনগণের পক্ষে থাকার কথা ছিল। কিন্তু জনগণের সঙ্গে গণমাধ্যমের একটি দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনাকে গুম-খুনের বিষয়ে প্রশ্ন না করে অনেক সাংবাদিক তৈলমর্দনে ব্যস্ত ছিলেন। ফলে সংবাদ সম্মেলন প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা সভায় পরিণত হতো।
তিনি বলেন, এভাবে শেখ হাসিনাকে স্বৈরাচার থেকে মহাস্বৈরাচার এবং ফ্যাসিস্ট থেকে মহাফ্যাসিস্টে পরিণত করার ক্ষেত্রে দালাল সাংবাদিকদের বড় ভূমিকা ছিল। এ সত্য স্বীকার করতে হবে।
গাজীপুর জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামাল উদ্দিন সবুজ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়াসহ অন্যান্যরা বক্তব্য দেন।
দ.ক.সিআর