জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। বই মানুষের ভেতরের অন্ধকার দূর করে আলোর পথ দেখায়। বর্তমান ডিজিটাল যুগে যখন আমাদের তরুণ প্রজন্ম তথ্যপ্রযুক্তির অতি-ব্যবহার বা স্ক্রিন অ্যাডিকশনে ভুগছে, তখন এই মফস্বল বা গ্রামাঞ্চলে বইপড়ার এমন আন্দোলন সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। সংবেদনশীল মানুষ হতে হলে বই পড়তে হবে। বইপড়ার এই কর্মশালার মাধ্যমে আমাদের তরুণ ও কিশোর পাঠকেরা বইয়ের গভীরে ডুব দেওয়ার এবং মননশীলতার চর্চা করার নতুন উদ্দীপনা পাবে বলে জানান মোস্তফা মোরশেদ।
আজ (শনিবার, ১ আগষ্ট) হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার মুক্তাহার গ্রামে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রী রবীন্দ্র চন্দ্র দাস গ্রন্থাগার’ আয়োজিত বইপড়া বিষয়ক কর্মশালা, পুরুষ্কার বিতরণী ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গ্রন্থাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি রত্নদীপ দাস রাজুর সভাপতিত্বে এবং পাঠক ফোরামের সভাপতি রামু চন্দ্র দাশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে বীর মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্র চন্দ্র দাসের স্মরণে একমিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়। সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রতিষ্ঠাতা ডেপুটি কমান্ডার ও জগন্নাথপুর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রসরাজ বৈদ্য বলেন- “সহযোদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্র চন্দ্র দাস-এঁর নামে প্রতিষ্ঠিত এই গ্রন্থাগার শুধু একটি বইয়ের ভাণ্ডার নয়। এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জ্ঞানচর্চা ও দেশপ্রেমের এক আলোকবর্তিকা। নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস, মানবিক মূল্যবোধ ও শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার এই মহৎ উদ্যোগ দীর্ঘজীবী হোক। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি মহান এই বীরকে, যাঁর আত্মত্যাগ আমাদের স্বাধীনতার অনুপ্রেরণা।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লংলা আধুনিক ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও পদক্ষেপ গণপাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো: মাজহারুল ইসলাম রুবেল বলেন- “একটি আদর্শ ও প্রগতিশীল সমাজ বিনির্মাণের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন লেখকের বইপড়া ও বইয়ের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে গ্রন্থাগারে নিয়মিত অনুশীলন একজন শিক্ষার্থীকে অনন্য করে তুলে। আমি নিজে শিক্ষাকতা পেশার সাথে যুক্ত থাকার পাশাপাশি 'পদক্ষেপ গণপাঠাগার' প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বই ও পাঠাগার আন্দোলনের সাথে জড়িয়ে আছি। সেই অভিজ্ঞতার আলোকেই বলতে চাই, বই মানুষের ভেতরের অন্ধকার দূর করে আলোর পথ দেখায়, আর বৃক্ষ আমাদের বাইরের পরিবেশকে সজীব ও বাসযোগ্য রাখে। একটি মানুষের মননশীলতা গঠনে বই যেমন জরুরি, তেমনি আমাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে প্রকৃতির সুষম সুরক্ষা বা বৃক্ষরোপণ সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।”
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- পদক্ষেপ গণপাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও জেকে এন্ড এইচ কে হাই স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক নিপা খান, নির্বাহী সদস্য হুমায়ুন কবির চৌধুরী, নির্বাহী সদস্য আয়ারল্যান্ড প্রবাসী সাজেদুল ইসলাম, জগন্নাথপুর উপজেলার ১নং কলকলিয়া ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক রূপক রাজ বৈদ্য, পল্লী চিকিৎসক বিশ্বজিৎ দাশ নারায়ণ, গ্রন্থাগার পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সাগর দাশ জনি, জনি দাশ, পাঠক ফোরামের সহ-সভাপতি সজীব দাশ, পাঠক ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক তীর্থ দাশ, প্রান্ত দাশ, জিৎগোপাল দাশ, দীপ শেখর দাশ প্রমুখ।
পাঠক-শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন- ঐশী দাশ দিঘি, মানপত্র পাঠ করেন নীলিমা দাশ ন্যান্সি।
দ.ক.সিআর.২৬