হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় এক সাংবাদিক ও তার স্ত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে লক্ষাধিক টাকা চাঁদা দাবির মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দৈনিক হবিগঞ্জের বাণী পত্রিকার চুনারুঘাট প্রতিনিধি এবং মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা চুনারুঘাট উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ফারুক মিয়া হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন—চুনারুঘাটের ফেসবুক চ্যানেল আই টিভির চুনারুঘাট প্রতিনিধি মাসুদ আলম এবং জসিম মিয়া নামে এক ব্যক্তি।
ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগ:
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুলাই সাংবাদিক ফারুক মিয়া ও তার স্ত্রীর একটি একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্ত গোপনে ভিডিও রেকর্ড করে অভিযুক্ত বিবাদীপক্ষ। পরবর্তীতে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়:
মাসুদ আলম ভুক্তভোগী সাংবাদিকের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। অপর অভিযুক্ত জসিম মিয়া দাবি করেন ১ লাখ টাকা।
ফারুক মিয়া আরও অভিযোগ করেন, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিবাদীরা তাকে চুনারুঘাট সাব-রেজিস্ট্রারি অফিসের সামনে থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় এবং থানায় আটকে রেখে মানসিক নির্যাতন চালায়।
"ভিডিওতে থাকা নারী আমার আইনত বিবাহিত স্ত্রী এবং আমাদের কাবিননামা ও এফিডেভিট রয়েছে। বিবাদীরা মূলত আমার সামাজিক সম্মানহানি এবং অনৈতিকভাবে অর্থনৈতিক সুবিধা হাসিলের উদ্দেশ্যে এই ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র করছে।" > — ভুক্তভোগী সাংবাদিক ফারুক মিয়া
প্রশাসনের বক্তব্য ও প্রতিক্রিয়া:
বর্তমানে ভুক্তভোগী সাংবাদিক ফারুক মিয়া ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি এ ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশের বক্তব্য: চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। (বিবাদীদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।)
সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ:
একজন পেশাদার সাংবাদিকের নিজ স্ত্রীর সাথে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদা দাবির মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ঘটনাটিকে চরম অবমাননাকর ও অপরাধমূলক উল্লেখ করে দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
দ.ক.সিআর