আসাদ ঠাকুর: মফস্বল এলাকার মানুষের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হলো নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা। একটি টেকসই সড়ক শুধু যাতায়াত সহজ করে না, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতিরও প্রাণসঞ্চার করে। তাই উন্নয়নকাজের ক্ষেত্রে মানুষের প্রত্যাশাও থাকে অনেক বেশি।
চুনারুঘাট-মাধবপুর উপজেলায় সরকারি বরাদ্দকৃত উন্নয়ন কাজের বিষয়ে এমপি শাম্মি আক্তার বলেছেন, সরকারের সদিচ্ছা থাকলেও পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে সব পরিকল্পনা একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, এ বছর না হলেও আগামী বছর আরও দৃষ্টিনন্দন ও মানসম্মত কাজ করা যাবে।
এমপি শাম্মির সরকারি সহযোগিতায় নিজ এলাকায় চলমান কাজগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- গোছাপাড়া স্মৃতিসৌধে টাইলসের কাজ, ছয়শ্রীর আবুল হাশিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় গ্রীল বেষ্টন, আমুরোড জামে মসজিদকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণে উন্নিতকরণ, গোছাপাড়া কবরস্থানের প্রচীর নির্মাণসহ আরও বেশকিছু কাজ চলমান।
তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থ বরাদ্দ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সীমিত সম্পদ দিয়ে সরকারকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, অবকাঠামো ও দুর্যোগ মোকাবিলাসহ নানা খাতে ব্যয় করতে হয়। ফলে সব এলাকার সব দাবি একসঙ্গে পূরণ করা সম্ভব হয় না।
তবে সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। তারা বাহারি পরিকল্পনার চেয়ে এমন সড়ক চান, যা বর্ষায় ভেঙে যাবে না; এমন বাঁধ চান, যা বন্যার সময় টিকে থাকবে; এমন অবকাঠামো চান, যা বছরের পর বছর মানুষের কাজে লাগবে। উন্নয়নের প্রকৃত সৌন্দর্য রঙিন নকশায় নয়, তার স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতায়।
চুনারুঘাট-মাধবপুরের মতো সীমান্তবর্তী ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের বিষয় নয়, এটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নেরও প্রশ্ন। তাই বরাদ্দ যতই সীমিত হোক, পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা এবং কাজের মান নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে সীমিত অর্থেও বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।
জনগণ আশাবাদী হতে চায়। তবে সেই আশার ভিত্তি হতে হবে বাস্তব কাজ। আগামী বছরের প্রতিশ্রুতি তখনই অর্থবহ হবে, যখন আজকের শুরু হওয়া উন্নয়ন আগামী দিনের টেকসই পরিবর্তনের ভিত্তি গড়ে তুলবে। মানুষের প্রত্যাশা একটাই—প্রতিশ্রুতির চেয়ে বাস্তব উন্নয়নই হোক সরকারের সবচেয়ে বড় পরিচয়।
দ.ক/কেএটি