আব্দুর রাজ্জাক রাজু : বহুল আলোচিত-সমালোচিত উপজেলা শিক্ষা অফিসার নাজনীন সুলতানা কে আগামী রবিবারের মধ্যে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসে যোগদানের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
(২১ জুলাই) মঙ্গলবার গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহিনা ফেরদৌসী এর নির্দেশ অনুযায়ী অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক (প্রশাসন ১) মুজিব আলম স্বাক্ষরিত পত্র জারি করেন।
বদলি হলেও চিকিৎসা ছুটি নিয়ে প্রায় ৪ মাসেরও বেশি সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। যে কারণে চুনারুঘাট উপজেলা শিক্ষা ব্যবস্থা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।
তার বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র বিক্রি নিয়ম,ঘোষ দুর্নীতি ও স্বজন প্রীতির শত শত অভিযোগ রয়েছে।উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাজনীন সুলতানা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আ'লীগের এমপিদের ক্ষমতা দিয়ে শিক্ষক বদলি, শিক্ষকদেরকে মৌখিক ডেপুটেশন, পেনশন, বিদ্যালয়ের স্লিপ, মেরামত, শিক্ষকদের উচ্চতর বেতন স্কেল, চাকুরী স্থায়ীকরন এবং বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সিএনজি ভাড়াসহ বিভিন্ন অজুহাতে হাজার হাজার টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। প্রান্তিক মূল্যায়নে প্রশ্নপত্র উচ্চ মুল্যে বিক্রি করায় তার বিরুদ্ধে উপজেলার সকল শিক্ষকগণ আন্দোলন করেন। ফলে জাতীয় পত্রিকা ও স্থানীয় পত্রিকাসহ ১১টি পত্রিকায় তার ছবিসহ বিভিন্ন দুর্নীতির বিষয়ে অভিযোগ উঠে।তিনি সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার থাকাকালীন সময়ে তার দুর্নীতির দায়ে শাস্তিপ্রাপ্ত হন। তিনি সাদা রংঙ্গের একটি নিজস্ব প্রাইভেট কার দিয়ে অফিসে আসা যাওয়া করেন এবং ঢাকা মোহাম্মদপুরে একটি আলীশান বাড়ী করেছেন। তার দূরব্যবহারে শিক্ষক, অভিভাবক, সাধারণ মানুষ অতিষ্ট এবং কেউ তাকে পছন্দ করেনা। চুনারুঘাট উপজেলা ১৭০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১১০টি কেজি স্কুল, ২৮০টি এনজিও স্কুলসহ প্রায় ১ হাজারের বেশি শিক্ষক আছেন। তিনি প্রতি মাসে প্রায় ১৫ দিন অফিস করেন বাকী দিনগুলো বিভিন্ন অজুহাতে অফিস ফাঁকি দেন। নিয়মিত অফিস না করার কারণে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তাকে সুকজ করেন।
নাজনীন সুলতানা দীর্ঘ প্রায় ৪ মাস বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থেকে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান না করার কারণে তাকে মহাপরিচালক কৈফিয়ত তলব করেন এবং তিনি কোথায় আছেন এ বিষয়ে বিভাগীয় প্রধানকে চিঠি দেন। এখানে একজন অসুস্থ, অভিযুক্ত মহিলা শিক্ষা অফিসার দিয়ে এতবড় উপজেলা চালানো তার পক্ষে খুবই দুরহ এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরী হয়।
চুনারুঘাট উপজেলায় একজন সৎ,দক্ষ, প্ররিশ্রমী ও পেশাগত দায়িত্বশীল শিক্ষা অফিসার নিয়োগ দিলেই হল।
দ.ক.এআরআর